অপহরণের জন্য আর দরকার হচ্ছে না অপহরণকারী বা কোনও গাড়ি। সমাজমাধ্যমে (Social Media) পরিচয় চুরি, ভুয়ো প্রোফাইল এবং ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েই তৈরি হচ্ছে নতুন ফাঁদ। জগৎবল্লভপুরে (Jagatballavpur) এক নাবালিকা নিখোঁজের তদন্তে নেমে এমনই এক সাইবার অপরাধের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, নাবালিকার পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে তাকে কার্যত ভার্চুয়াল জালে আটকে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। এই ধরনের অপরাধকেই ‘ডিজিটাল কিডন্যাপিং’ (Digital Kidnapping) বলে চিহ্নিত করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন পরিবারের সদস্যরা। তদন্তে নেমে শারীরিক অপহরণের প্রচলিত কোনও সূত্র না পেয়ে সমাজমাধ্যমের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, নাবালিকার ছবি, নাম-সহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই পরিচয় সামনে রেখে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাপ তৈরি এবং টাকা আদায়ের চেষ্টা চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, ওই নাবালিকার পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে অন্য কিশোরীদেরও যোগাযোগের জালে টানার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
সাইবার অপরাধের ধরন যে ক্রমশ বদলাচ্ছে, জগৎবল্লভপুরের ঘটনাকে তারই উদাহরণ হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, ‘ডিজিটাল কিডন্যাপিং’-এ কোনও শিশুকে বাস্তবে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সমাজমাধ্যম থেকে ছবি বা তথ্য সংগ্রহ করে তা দিয়ে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়। কখনও অভিভাবক, কখনও বন্ধু বা পরিচিতের পরিচয় দিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এমনকী এআই ব্যবহার করে ছবি বিকৃত করে তা দেখিয়ে ভয় দেখানো বা পরিবারের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। সন্তানদের ছবি, স্কুলের পরিচয়, ঠিকানা, ফোন নম্বর বা নিয়মিত যাতায়াতের তথ্য প্রকাশ্যে না দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কোনও অচেনা অ্যাকাউন্ট থেকে যোগাযোগ, হুমকি বা টাকা চাওয়ার ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পুলিশ ও সাইবার অপরাধ দমনকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
















