হাইকোর্টের দ্বারস্থ নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। জেলা হেফাজতে থাকা মিলনের বিরুদ্ধে আরও ৫ মামলা। মঙ্গলবার জামিনের আবেদনের শুনানি হবে।

১৯ বছর পুরনো খুন ও অপহরণের মামলায়   গ্রেফতার করা হয়েছে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। ১৪ দিনের জেল হেফাজত হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থীর।  জানা গিয়েছে, একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হলেও এখন আরও পাঁচটি মামলা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বড় কোনও আইনি পদক্ষেপ এড়াতে রক্ষাকবচ প্রয়োজন। ফল  হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। চার্জসিটে মিলনকে পলাতক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার পরে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে দলনেত্রী জানিয়ে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে  কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবেন তাঁরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ১৯ বছরের পুরনো একটি মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

 

২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মিলনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ সূত্রের খবর, তাঁর নামে মোট চারটি খুনের মামলা ছাড়াও খুনের চেষ্টা, অপহরণ, প্রমাণ লোপাট, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা ঝুলছিল। খেজুরি থানাতেও তাঁর নামে অভিযোগ আছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এতদিন পর কেন মিলনকে নিয়ে সক্রিয় হল পুলিশ। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর চার মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন সরকারও কেন মিলনকে আগে গ্রেফতার করেনি

 

জেলবন্দি থাকলেও নির্বাচনী লড়াই থেকে সরছেন না মিলন। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। মিলনের স্ত্রী অর্পিতা প্রধান ভিডিও বার্তায় স্বামীর জন্য ভোট প্রার্থনা করলেন। তিনি বলেন, “কংগ্রেস প্রার্থী হওয়ার পরই ওঁকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হল। উনি তো নিয়মিত ভোট দিতে যেতেন, পুজোর সময় এলাকায় থাকতেন।ভোটে রায় দিয়েই মানুষ মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের পক্ষে জবাব দিক।” ভোটের মুখে প্রার্থীর স্ত্রীর এই আবেগঘন বার্তা নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল। 

গ্রেফতারের পর মিলনকে একটি হোটেলে রেখে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই  মিলনের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ করেন রাজ্য কংগ্রেসের নেতারা। রাতেই শুভঙ্কর সরকার যান পূর্ব মেদিনীপুরে।

এই গ্রেফতারের পর কংগ্রেস হাইকমান্ড স্বভাবতই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে একে গণতন্ত্রের হত্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন। শুধু তাই নয় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাংলায় পাঠানো হয়েছে কংগ্রেসের ইনচার্জ প্রকাশ জোশিকে ।