কয়েক মাসেই আমূল বদলে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ। বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল (TMC) ভেঙে গিয়েছে দু'ভাগে, যার প্রভাব পড়েছে বিরোধী রাজনীতিতে। অন্যদিকে, রাজ্যে কংগ্রেসেরও (Congress) তেমন শক্তিশালী অবস্থান চোখে পড়ছে না। এই পরিস্থিতিতে ফের নিজেদের জায়গা তৈরি করতে মরিয়া বামেরা। আর সেই লড়াইয়ে সামনে রাখা হচ্ছে যুবসমাজকে। সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে যুবকদের ঐক্যবদ্ধ করে পথে নামার বার্তা দিচ্ছেন  সিপিআই(এম)-র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim) থেকে শুরু করে দলের তরুণ মুখ মীণাক্ষি মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee)।

পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বুথে দলের ঝান্ডা ওড়ানোই এখন বামেদের প্রধান লক্ষ্য। রবিবার ধর্মতলায় DYFI-এর ‘ইনকিলাব সমাবেশ’-এ সেই লক্ষ্যেই যুবসমাজকে কার্যত লড়াইয়ের ফ্রন্টলাইনে নিয়ে আসার বার্তা দিলেন বাম নেতৃত্ব। সভা থেকে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে সরব হন সেলিম ও মীণাক্ষি।

রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে নিশানা করে সিপিআই(এম)-র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ক্ষমতায় আসার মাত্র চার মাসের মধ্যেই একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ‘‘হকারদের পেটে লাঠি মারা হয়েছে, মসজিদের মাইক বন্ধ করা হয়েছে। ওষুধ ও চিনির দাম বেড়েছে। এখন আবার নিরামিষ-আমিষ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, বাইরে থেকে ‘বাবা’ এনে ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি।

একই সুরে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের ইতিহাস তুলে ধরে আক্রমণ শানান মীণাক্ষি মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিজেপি-সংঘের পূর্বসূরিরাই বঙ্গভঙ্গের সময় বিভাজনের রাজনীতি করেছিল। সিপাহী বিদ্রোহের সময়ও হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভাজন তৈরির অভিযোগ তোলেন তিনি। মীণাক্ষির আরও দাবি, ‘‘রেল বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। গোটা দেশে ৯০ হাজার স্কুলে তালা ঝুলেছে।’’

এই পরিস্থিতিতে যুবসমাজকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দেন মীণাক্ষি। লড়াইটা কোনও একক সংগঠনের নয়। সকলে একসঙ্গে রুখে দাঁড়ালে যে কোনও শক্তির বিরুদ্ধেই লড়াই করা সম্ভব। ধর্মতলার সমাবেশ থেকে সেই ঐক্যবদ্ধ যুবশক্তিকেই বামেদের আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার করার বার্তা দেওয়া হল।