খারাপ আবহাওয়া আর তুষারঝড়ের ভ্রূকুটি উপেক্ষা করে পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ জয়ের অদম্য জেদই কাল হল। নেপালের মানাসলু শৃঙ্গ অভিযানে গিয়ে তুষারধসে চাপা পড়ে প্রাণ হারালেন বাঙালি পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি গুহ। তাঁর সঙ্গে থাকা গাইড ফুরসেম্বা শেরপাও প্রকৃতির রোষ থেকে বাঁচতে পারেননি।

নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা ধ্রুবজ্যোতি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। কর্মসূত্রে জার্মানিতে এক নামী বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তিনি। পাহাড় ছোঁয়ার নেশায় ইতিপূর্বে একাধিক শৃঙ্গ স্পর্শ করেছেন। সম্প্রতি বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ ৮,১৬৩ মিটার উঁচু মানাসলুর চূড়া ছোঁয়ার লক্ষ্যে নেপালে অভিযান শুরু করেছিলেন তিনি।

নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও উদ্ধারকারী দল সূত্রের খবর, শনিবার রাতে মানাসলুর ক্যাম্প-৩ এলাকায় একটি তাঁবুর মধ্যে অবস্থান করছিলেন ধ্রুবজ্যোতি এবং ফুরসেম্বা। সেই সময় আচমকা পাহাড়ের উপর থেকে প্রবল তুষারধস নেমে আসে। ধসের ধাক্কায় তাঁদের তাঁবুটি প্রায় সাত ফুট তাজা বরফের নীচে তলিয়ে যায়। রবিবার সকাল থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। দীর্ঘ তল্লাশির পর বরফ খুঁড়ে দুজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহগুলি বেস ক্যাম্পে নামিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই মানাসলুর উচ্চ শিবিরগুলিতে আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল ছিল। ক্যাম্প-৩-এর উপরে তুষারধসে রোপ-ফিক্সিং দলের দড়ি ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে একাধিক পর্বতারোহী দল বেস ক্যাম্পে নেমে আসছিলেন। কিন্তু ধ্রুবজ্যোতি এবং তাঁর গাইড অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮ সেপ্টেম্বর সামিট রুট খুলে দেওয়ার পর তাঁরা ক্যাম্প-৩ থেকে শৃঙ্গের পথে এগোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই নেমে আসে ভয়ঙ্কর দুর্যোগ, যা কেড়ে নিল এই বাঙালি অভিযাত্রীর প্রাণ।