একদিকে পটাশপুরে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক খুনের অভিযোগ অন্যদিকে যাদবপুরে দলীয় নেতা-কর্মী এবং পার্টি অফিসের উপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ। পরপর দুই ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপি ও পুলিশেকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Trinamool MLA Kunal Ghosh)। তাঁর অভিযোগ, পটাশপুরের দলীয় কর্মী বিজন বন্ধু বাগকে (Bijon Bandhu Bag) মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়েছিল। কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এবং অন্যদিকে যাদবপুরে (Jadavpur) বিজেপির বহিরাগত গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে রাতভর হামলা ও তাণ্ডবের অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল বিধায়ক।

বিজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব কুণাল। দলের দাবি, হামলার পর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমে তা নিতে গড়িমসি করা হয়েছিল। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে তিনি এবং দোলা সেন-সহ দলের নেতারা হাসপাতাল এবং ফুলবাগান ও পটাশপুর থানার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। পরিবারের সদস্যদের হয়রানি কমানো এবং দ্রুত ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা যাতে করা যায় তার জন্য দল চেষ্টা করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আইনজীবী অর্ক নাগ ময়নাতদন্তের সময় ভিডিয়োগ্রাফি-সহ একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আবেদন করেছেন বলেও জানান কুণাল।

অন্যদিকে, যাদবপুরের ঘটনাকে ঘিরেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, রাতভর হামলার ঘটনায় প্রাক্তন বিধায়ক মলয় মজুমদার ও প্রাক্তন কাউন্সিলর বসুন্ধরা গোস্বামীর (Former Councilor Basundhara Goswami) অফিস-বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। এমনকি দলীয় কার্যালয়েও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সময় পুলিশকে বারবার জানানো হলেও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হামলাকারীদের সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও এখনও কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

এই দুই ঘটনাকে একই সূত্রে এনে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘গুন্ডারাজ’ এবং ‘পুলিশ রাজ’-এর অভিযোগ তুলেছেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, একদিকে পটাশপুরে দলের কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অন্যদিকে যাদবপুরে প্রকাশ্যে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠছে। সিপিএমের পার্টি অফিসেও হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে বলে তিনি জানান। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভাবে বৃহত্তর প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

বিজনের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যাদবপুরের ঘটনার প্রতিবাদে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিলও করা হয়েছে। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলির উদ্দেশ্যে তৃণমূলের বার্তা, শুধু তৃণমূল-বিরোধিতার রাজনীতি করতে গিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক।