ভরদুপুরে বাড়িতে একা ছিলেন অসুস্থ যুবক। সেই সুযোগেই কি বাড়িতে ঢুকেছিল দুষ্কৃতীরা? বাগুইআটির (Baguiati) রঘুনাথপুর সরকারবাগান এলাকায় শয্যাশায়ী এক যুবকের মৃত্যুকে (Youth Allegedly Killed) ঘিরে এমনই প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকে লুঠপাট চালানোর পর ওই যুবককে মারধর করে খুন করা হয়েছে। অভিযোগ আলমারি থেকে নগদ টাকা ও সোনার গয়না লুঠেরও। সেইসঙ্গে এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কীভাবে দিনের আলোতে খাস কলকাতার মধ্যে এইভাবে বাড়িতে দুষ্কৃতি ঢুকে খুন করে লুটের ঘটনা ঘটল?
আরও পড়ুন: রুগ্ন পশুদের দেখে উদ্বেগ, আলিপুর চিড়িয়াখানার পরিকাঠামোয় ক্ষুব্ধ বনমন্ত্রী
মৃতের নাম বলরাম রাজবংশী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছর ধরে অসুস্থতার কারণে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। বাবা ও দাদা মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। রবিবার সকালে তাঁরা কাজে বেরিয়ে যান। অন্যদিকে, বলরামের মা-ও পরিচারিকার কাজের জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন। ফলে বাড়িতে একাই ছিলেন বলরাম। সঙ্গে ছিল তাঁদের পোষ্য। অভিযোগ, এই সুযোগেই কয়েকজন দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢোকে। প্রথমে পোষ্যটিকে অন্য একটি ঘরে আটকে দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি। এরপর বাড়িতে লুঠপাট চালানো হয়। আলমারি থেকে নগদ টাকা এবং সোনার গয়না নিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, লুঠ হওয়া সামগ্রীর মোট মূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকারও বেশি।
এদিকে, বলরামের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ভারী কোনও বস্তু দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তাঁর মা বাড়িতে ফিরে ঘরের ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেকে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল বলেও পরিবারের দাবি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাগুইআটি থানার পুলিশ (Baguiati Police Station)। যুবকের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, লুঠের উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কীভাবে বাড়িতে প্রবেশ করা হয়েছিল, ঘটনায় কতজন জড়িত এবং খুনের নেপথ্যে শুধুই লুঠের উদ্দেশ্য ছিল কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পরীক্ষা শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
















