২০১১-তে রাজ্যে বামেদের সরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে (Mamata Benerjee) সরকার প্রতিষ্ঠার সময়ে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন ডাঃ সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার। পূর্ব মেদিনীপুরের (East Mednipur) মহিষাদলের প্রার্থী হন তিনি। সেই সময় তাঁর প্রচারে বক্তৃতা দিয়ে প্রশংসিত হন স্থানীয় তৃণমূল (TMC) নেতা মহম্মদ হাফিজুল হাসান। স্মৃতিস্বরূপ প্রচার লিফলেটে নিজের স্বাক্ষর করেন সুদর্শন। অটোগ্রাফ করেন আরও একজন- পরবর্তীতে বিধায়ক হওয়া অভিনেতা চিরঞ্জিত ওরফে দীপক চক্রবর্তী। এতদিন সেই অটোগ্রাফ আশীর্বাদ স্বরূপ যত্নে রেখেছিলেন হাফিজুল। কিন্তু সুদর্শন-কাকলির পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার (Baidyanath Ghoshdastider) তাঁর বিয়েতে দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদী গয়না ফেরত দেওয়ার পরেই সেই অটোগ্রাফের স্মৃতি ছিঁড়ে ফেললেন হাফিজুল হাসান (Md Hafizul Hassan)।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই নতুন ক্ষমতায়নের অঙ্ক কষতে দল ছাড়েন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দিল্লি গিয়ে দল ভাঙানো ও বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে সেই দলেই যাওয়ার ফিকির খুঁজছে তিনি। তবে, তাঁর স্বামী সুদর্শন দীর্ঘদিনই রাজনীতির আঙিনার বাইরে। এই পরিস্থিতিতে মায়ের হয়ে ব্যাট ধরেছেন বিদেশে থাকা পুত্র বৈদ্যনাথ। স্যোশাল মিডিয়ায় বারবার মমতা-পন্থী নেতাদের কুৎসিত আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর বিয়েতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোধ্যায়ের দেওয়া সোনার গয়না ও পাঞ্জাবিও ফের পাঠান বৈদ্যনাথ।
এর পাল্টা বৈদ্যনাথের বাবার অটোগ্রাফের কাগজ ছিঁড়ে ফেললেন মহিষাদলের মমতা তৃণমূলের নেতা হাফিজুল। তিনি বলেন, এতদিন সেটা উপহার নয়, সুদর্শন ঘোষ দস্তিদারের আশীর্বাদ হিসেবে রেখে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মমতার আশীর্বাদ শুধু মাত্র উপহার বলে বৈদ্যনাথ ফিরিয়ে দেওয়ায় বেজায় ক্ষুব্ধ দলনেত্রী-অন্ত-প্রাণ হাফিজুল হাসান। নিজের স্যোশাল মিডিয়া পেজে ভিডিও করে তিনি ছিঁড়ে ফেলেন পয়লা মে ২০১১-তে বৈদ্যনাথের বাবা সুদর্শনের স্বাক্ষর করা লিফলেট। কারণ, তাঁর কাছে এখন আর সেটা স্বনামধন্য চিকিৎসের আশীর্বাদ নয়, একটি নিছক উপহার। যেটার স্মৃতি তিনি আর বয়ে বেড়াতে চান না। এই ঘটনা থেকে আরও একবার স্পষ্ট, এই দলবদলু নেতৃত্বকে সমর্থন করেন না তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন।
















