আলিপুর চিড়িয়াখানার ( Alipore Zoo) পশুদের স্বাস্থ্য ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উঠল প্রশ্ন। চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে গিয়ে বেশ কিছু পশুর শারীরিক অবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ (Manoj Kumar Oraon) এবং বন প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামী (Dibakar Gharami)। পশুদের খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রীরা। অব্যবস্থার অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত পরিস্থিতি বদলের নির্দেশ দিয়েছে বন দফতর।

আরও পড়ুন: কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া কতদূর? পুরুলিয়ায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

নতুন মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পাওয়ার পর সম্প্রতি আলিপুর চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে যান দুই মন্ত্রী। খাঁচায় খাঁচায় ঘুরে পশুদের অবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি চিড়িয়াখানার রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালন ব্যবস্থা এবং পশুদের জন্য বরাদ্দ খাবার সম্পর্কেও খোঁজ নেন মন্ত্রীরা। বন দফতর সূত্রে খবর, বেশ কয়েকটি পশুর শারীরিক অবস্থা দেখে মন্ত্রীরা অসন্তুষ্ট।

পরিদর্শনের পরেই পশুদের খাবারের গুণমান বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ বৃদ্ধির নির্দেশ দেন বনমন্ত্রী। তাঁর কথায়, চিড়িয়াখানায় থাকা প্রাণীদের সুস্থ রাখা বন দফতরের প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। পশুদের খাবারের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তার পুরোটা যাতে তাদের পিছনেই যথাযথ ভাবে খরচ হয়, সে বিষয়েও কর্তব্যরত কর্মীদের সতর্ক করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া কতদূর? পুরুলিয়ায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

মনোজ বলেন, বন দফতরের কাজকর্ম ধাপে ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আলিপুর চিড়িয়াখানা ঘুরে বেশ কিছু ত্রুটি ও গাফিলতি নজরে এসেছে। তাঁর কথায়, এই ধরনের অব্যবস্থা দীর্ঘদিন চলতে দেওয়া হবে না। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সংশোধন করতে হবে। দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও সতর্ক করে তিনি জানিয়েছেন, নির্দেশ পালনে গাফিলতি হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে।

বিশেষ করে কয়েকটি মাংসাশী প্রাণীর শারীরিক অবস্থা দেখে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রাণীদের স্বাস্থ্য ফেরাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ভবানীপুরের বিধায়ক হওয়ায় তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই চিড়িয়াখানার পশুদের স্বাস্থ্য ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন দিবাকর।

চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের পর বন দফতরের বার্তা স্পষ্ট, শুধু খাঁচা পরিষ্কার রাখা বা দর্শনার্থীদের জন্য পরিকাঠামো তৈরি করাই নয়, সেখানে থাকা প্রতিটি প্রাণীর পর্যাপ্ত খাবার, পুষ্টি এবং চিকিৎসার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি রাখতে হবে। আলিপুর চিড়িয়াখানায় সেই ব্যবস্থাই এবার নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ শুরু হচ্ছে।