Friday, January 9, 2026

পালকে পাখির ছবি: সিনিয়র আইপিএস কল্যাণের প্রতিভায় মুগ্ধ কলকাতা থেকে হায়দরাবাদ 

Date:

Share post:

জয়িতা মৌলিক

 

পুলিশের গলায় গান, পুলিশের কলমে সাহিত্য, পুলিশের তুলিতে রং। কড়া মেজাজের সঙ্গে এসবের সমাপতন খুব একটা বিরল নয়। তবে যে আঙুল মসৃণ ট্রিগারে, তাই স্বচ্ছন্দে চলে পাখির পালকের উপর; আলতো তুলির টানে। একেবারে অন্য ধরনের এই আর্ট ফর্ম যিনি অসাধারণ ভাবে আয়ত্ত করেছেন তিনি ডিআইজি-সিআইডি কল্যাণ মুখোপাধ্যায়  (DIG-CID Kalyan Mukhopadhyay) । সাহিত্য অনুরাগী বলে পুলিশ মহলে বেশ নাম আছে তাঁর। কবিতা-গল্প লেখার পাশাপাশি ক্যানভাসে স্বচ্ছন্দে চলে তাঁর পেন্সিল-ইজেল। তবে পাখির পালকে ছবি আঁকা একটা অন্যরকম শখ এই সিনিয়র আইপিএসের (Ips)।

হঠাৎ এরকম ইচ্ছে হল কেন? ‘এখন বিশ্ববাংলা সংবাদ’কে কল্যাণ মুখোপাধ্যায় জানান, করোনাকালের বেশ কিছুদিন আগে এই ভাবনা মাথায় আসে। কংক্রিটের জঙ্গলে কমছে পাখির সংখ্যা। সেইসময় রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে পালক কুড়িয়ে পান তিনি। মনে হয়, আগামী দিনেই পালকটাই থেকে যাবে, পাখির আর দেখা মিলবে না। সে ভাবনা থেকেই পাখির পালকে পাখির ছবি আঁকার আইডিয়া আসে।

কল্যাণ মুখোপাধ্যায় জানান, দেখতে নরম-সরম হলেও পাখির পালকের ছবি আঁকা কিন্তু খুব কঠিন। কারণ, প্রাকৃতিক নিয়মেই পালকের উপর থাকে একটা মোমের আস্তরণ। রং পিছলে যায় তাতে। আঁকার আগে জলে ভিজিয়ে রাখতে হয় পালক। তারপরে অত্যন্ত সরু তুলি দিয়ে অতি নরম ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলতে হয় ছবি। একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই সবটা ভেস্তে যাবে। কারণ, নরম পাখির মতোই অভিমানী তার পালক। ব্রাশের সামান্য অভিঘাতও সহ্য হয় না তার।

টার্কি থেকে কোয়েল, পায়রা- সবার পালকেই ছবি এঁকেছেন এই দুঁদে আইপিএস অফিসার। বর্তমানে তিনি হায়দরাবাদের সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল ন্যাশনাল পুলিশ অ্যাকাডেমিতে একটি প্রশিক্ষণে রয়েছেন। সেখানকার ডিরেক্টর অতুল করোয়ালকে সেই পালকের ছবি এঁকে উপহার দিয়েছেন তিনি। যা দেখে তাক লেগে গিয়েছে সবার। পালক দুটি ওই ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতেই সকালে হাঁটতে বেরিয়ে কুড়িয়ে পাওয়া।

ছোটবেলা থেকে আঁকা শেখেননি কল্যাণ মুখোপাধ্যায়। সাধারণ পরিবারে মফস্বলে বড় হওয়া ছেলেটির বাবা-মা লেখাপড়াতেই শিখিয়ে ছিলেন। আঁকাটা প্যাশান। ডিআইজি-সিআইডির কথায়, চাপ কমানোর দাওয়াই। যেটা উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন মনোবিদরাও। ক্যানভাস, কাচ বা পাখির পালকে ছবি ফুটিয়ে তুলতে যে পরিমাণ মনঃসংযোগ প্রয়োজন হয়, তাতে অন্য চিন্তাগুলো নিমেষে উধাও হয়ে যায়। সঙ্গে থাকে সৃষ্টির আনন্দ। তাই স্বল্প বিরতির মধ্যে রং-তুলির খেলার পরে আবার কাজের জগতে নতুন উদ্দীপনায় ফিরে যাওয়া যায়। কল্যাণ মুখোপাধ্যায়ের এই শিল্প সৃষ্টির ফ্যান কলকাতার অনেক শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্তাও।

 

 

spot_img

Related articles

বাংলার পড়ুয়াদের জন্য বাড়ল ‘ঐক্যশ্রী’ স্কলারশিপে আবেদনের সময়সীমা

পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ (Swami Vivekananda scholarship) ও ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ প্রদান করা...

আইপ্যাকে তল্লাশির নামে নির্বাচনী নথি চুরির প্রতিবাদে আজ রাজপথে মিছিল মমতার

পদ্মপার্টির নির্দেশে আইপ্যাক (IPAC) অফিসে ইডি হানা ও তল্লাশির নামে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী নথি চুরির প্রতিবাদে শুক্রবার পথে...

৩ টেসলা এমআরআই! ফুলবাগানে ডায়াগনস্টিক পরিকাঠামোয় নয়া সংযোজন ‘বিজয়া’র

ফুলবাগানে অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক কেন্দ্রের সূচনা করল বিজয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই নতুন কেন্দ্রের মাধ্যমে শহরের...

জ্যাভাথন থেকে সমাবর্তন! জানুয়ারি জুড়ে জেভিয়ার্সের ঠাসা কর্মসূচি

শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে একসূত্রে বেঁধে জানুয়ারি মাসজুড়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির ঘোষণা করল সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ...