Wednesday, June 24, 2026

পালকে পাখির ছবি: সিনিয়র আইপিএস কল্যাণের প্রতিভায় মুগ্ধ কলকাতা থেকে হায়দরাবাদ 

Date:

Share post:

জয়িতা মৌলিক

 

পুলিশের গলায় গান, পুলিশের কলমে সাহিত্য, পুলিশের তুলিতে রং। কড়া মেজাজের সঙ্গে এসবের সমাপতন খুব একটা বিরল নয়। তবে যে আঙুল মসৃণ ট্রিগারে, তাই স্বচ্ছন্দে চলে পাখির পালকের উপর; আলতো তুলির টানে। একেবারে অন্য ধরনের এই আর্ট ফর্ম যিনি অসাধারণ ভাবে আয়ত্ত করেছেন তিনি ডিআইজি-সিআইডি কল্যাণ মুখোপাধ্যায়  (DIG-CID Kalyan Mukhopadhyay) । সাহিত্য অনুরাগী বলে পুলিশ মহলে বেশ নাম আছে তাঁর। কবিতা-গল্প লেখার পাশাপাশি ক্যানভাসে স্বচ্ছন্দে চলে তাঁর পেন্সিল-ইজেল। তবে পাখির পালকে ছবি আঁকা একটা অন্যরকম শখ এই সিনিয়র আইপিএসের (Ips)।

হঠাৎ এরকম ইচ্ছে হল কেন? ‘এখন বিশ্ববাংলা সংবাদ’কে কল্যাণ মুখোপাধ্যায় জানান, করোনাকালের বেশ কিছুদিন আগে এই ভাবনা মাথায় আসে। কংক্রিটের জঙ্গলে কমছে পাখির সংখ্যা। সেইসময় রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে পালক কুড়িয়ে পান তিনি। মনে হয়, আগামী দিনেই পালকটাই থেকে যাবে, পাখির আর দেখা মিলবে না। সে ভাবনা থেকেই পাখির পালকে পাখির ছবি আঁকার আইডিয়া আসে।

কল্যাণ মুখোপাধ্যায় জানান, দেখতে নরম-সরম হলেও পাখির পালকের ছবি আঁকা কিন্তু খুব কঠিন। কারণ, প্রাকৃতিক নিয়মেই পালকের উপর থাকে একটা মোমের আস্তরণ। রং পিছলে যায় তাতে। আঁকার আগে জলে ভিজিয়ে রাখতে হয় পালক। তারপরে অত্যন্ত সরু তুলি দিয়ে অতি নরম ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলতে হয় ছবি। একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই সবটা ভেস্তে যাবে। কারণ, নরম পাখির মতোই অভিমানী তার পালক। ব্রাশের সামান্য অভিঘাতও সহ্য হয় না তার।

টার্কি থেকে কোয়েল, পায়রা- সবার পালকেই ছবি এঁকেছেন এই দুঁদে আইপিএস অফিসার। বর্তমানে তিনি হায়দরাবাদের সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল ন্যাশনাল পুলিশ অ্যাকাডেমিতে একটি প্রশিক্ষণে রয়েছেন। সেখানকার ডিরেক্টর অতুল করোয়ালকে সেই পালকের ছবি এঁকে উপহার দিয়েছেন তিনি। যা দেখে তাক লেগে গিয়েছে সবার। পালক দুটি ওই ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতেই সকালে হাঁটতে বেরিয়ে কুড়িয়ে পাওয়া।

ছোটবেলা থেকে আঁকা শেখেননি কল্যাণ মুখোপাধ্যায়। সাধারণ পরিবারে মফস্বলে বড় হওয়া ছেলেটির বাবা-মা লেখাপড়াতেই শিখিয়ে ছিলেন। আঁকাটা প্যাশান। ডিআইজি-সিআইডির কথায়, চাপ কমানোর দাওয়াই। যেটা উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন মনোবিদরাও। ক্যানভাস, কাচ বা পাখির পালকে ছবি ফুটিয়ে তুলতে যে পরিমাণ মনঃসংযোগ প্রয়োজন হয়, তাতে অন্য চিন্তাগুলো নিমেষে উধাও হয়ে যায়। সঙ্গে থাকে সৃষ্টির আনন্দ। তাই স্বল্প বিরতির মধ্যে রং-তুলির খেলার পরে আবার কাজের জগতে নতুন উদ্দীপনায় ফিরে যাওয়া যায়। কল্যাণ মুখোপাধ্যায়ের এই শিল্প সৃষ্টির ফ্যান কলকাতার অনেক শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্তাও।

 

 

Related articles

মিড ডে মিলে ডিমের দাবি থেকে ‘উপযুক্ত’র ব্যাখ্যা চেয়ে গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকা পালন কুণালের

কলকাতার সরকারি স্কুলে মিড ডে মিলে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইসকনকে। ফলে সেই পাতে পড়বে না ডিম। বুধবার, বিধানসভার...

কোহলির ফিটনেস নিয়ে কাটল ধোঁয়াশা, হার্দিককে নিয়ে বিরাট জল্পনা

বিরাট কোহলির (Virat Kohli) ফিটনেস নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে খেলতে পারবেন কিং কোহলি। কয়েকদিন আগেই ইংল্যান্ডের...

বিরল রোগের সঙ্গে লড়াই জারি, পদ্মভূষণ মঞ্চে আবেগঘন অলকা

ভারতের সংগীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী অলকা ইয়াগনিক (Alka Yagnik) মঙ্গলবার দেশের অন্যতম অসামরিক সম্মান পদ্মভূষণে (Padma Bhushan)...

শুভেন্দুর সঙ্গে কোন স্মৃতি এখনও অমলিন মহুয়ার?

অকপট মহুয়া মৈত্র (Mahua Maitra)। শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হলেও আবেগের সম্পর্ক রয়ে...