Monday, December 1, 2025

দশমীতে গঙ্গায় কড়া নজরদারিতে বিসর্জন, দই ঘাটে অভিনব ব্যবস্থা

Date:

Share post:

মহামারি আতঙ্ক, বৃষ্টির চোখ রাঙানি। সবমিলিয়ে ভালোয়-মন্দে আরও একটু দুর্গাপুজো কাটিয়ে ফেললো বাঙালি। আজ, বিজয়া দশমী। ঘরের মেয়েকে বিদায় জানানোর পালা। ক্ষণিকের জন্য বিষাদে ডুববে বাঙালি। আবেগ ঘন মুহূর্তেও সতর্ক প্রশাসন। দেবী দুর্গার বিসর্জনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে সজাক দৃষ্টি প্রশাসনের।

কলকাতা শহরের গঙ্গা ঘাটগুলিতে শয়ে শয়ে প্রতিমা বিসর্জনের রীতি রয়েছে। সেইমতো সকাল থেকেই প্রতিমা নিরঞ্জনে ঘাটমুখী মানুষ। যাতে নিরঞ্জনের এই রীতি সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সকাল থেকেই প্রস্তুত ছিল কলকাতা পুরসভা। বেলা যত গড়িয়েছে ততই ঘাটগুলিতে ভিড় বেড়েছে। জলপথে নজরদারিতে রয়েছে রিভার ট্রাফিক পুলিশ এবং ড্রোনের মাধ্যমেও চলছে নজরদারি।

প্রতিবছর গঙ্গার সবক’টি ঘাটের মধ্যে বেশি বিসর্জন হয় বাবুঘাট সংলগ্ন জাজেস ঘাট, বাজা কদমতলা ঘাট এবং নিমতলা ঘাটে। এবছর তিনটি ঘাটে মোট চারটি করে ক্রেন রাখা হয়েছে। বাজা কদমতলা ঘাটে গঙ্গার জলে ভাসমান বার্জের উপর একটি ক্রেন রয়েছে এবং পাড়েও একটি ক্রেন রয়েছে। নিমতলা এবং জাজেস ঘাটে পাড়ের উপরে একটি করে ক্রেন রয়েছে। করোনার দ্বিতীয় বর্ষেও সকল বিধিনিষেধ জারি রাখা হয়েছে। গঙ্গার জল যাতে দূষিত না হয়, তার দিকেও নজর রাখা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গাকে দূষণমুক্ত রাখতে কাঠামো তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অন্যত্র।

কলকাতা কর্পোরেশনের তরফে এবারই প্রথম দই ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বিকল্প ব্যবস্থায়, দুর্গা মূর্তি জলে না ভাসিয়েই নিরঞ্জন করা যাবে। সেক্ষেত্রে গঙ্গা থেকে জল তুলে, হোস পাইপের সাহায্যে সেই জল মূর্তির গায়ে ঢালা হবে। প্রতিমা গলা জল একটি রিজার্ভারে জমা করা হবে। এরপর ক্যানেলের মাধ্যেমে সেই জল ড্রেনে ফেলা হবে। গোটা প্রক্রিয়াটি এবার পরীক্ষামূলক ভাবে দই ঘাটে চালু করতে চলেছে কলকাতা কর্পোরেশন। গোটা প্রক্রিয়াটি ঘুরে দেখেন কর্পোরেশনের প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম। এছাড়াও প্রতিটি ঘাট পর্যবেক্ষণ করেন প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য দেবাশিস কুমার।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের গাইডলাইন অনুসারে প্রতিমার গায়ের ফুল, মালা এবং পুজোর অন্যান্য সামগ্রী নদীর জলছবি ফেলা যাবে না। বিসর্জনের আগে গঙ্গার তীরেই একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তা ফেলা হচ্ছে। এই উদ্যোগের কারণে কলকাতা পুরসভার পর্যাপ্ত কর্মী, পুলিশ এবং পরিকাঠামো রয়েছে গঙ্গার ঘাটগুলিতে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রতিটি প্রতিমার সঙ্গে পাঁচজনের বেশি ঘাটে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ দর্শকদেরও দূর থেকেই বিসর্জন দেখে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

দশমীর দিন মূলত বেশিরভাগ বিসর্জন হবে বাড়ির প্রতিমাই। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিসর্জনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

আরও পড়ুন- ছত্তিশগড়ের যশপুরে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কা, মৃত ৪, আহত কমপক্ষে ১৫

advt 19

 

 

spot_img

Related articles

পিছোল এসআইআর-এর সময়সীমা! ‘তাড়াহুড়ো’র বিরোধীতা করে কমিশনকে আক্রমণ চন্দ্রিমা–পার্থর

এসআইআর প্রক্রিয়ার নির্ঘণ্ট নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানৌতনের মধ্যে অবশেষে এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেল খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ-সহ গোটা...

এসআইআর বড় বালাই! ৭০ বছর বয়সে ‘বাবা’ হলেন লালগোলার নূরাল শেখ

রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া (এসআইআর) চলতেই এক অদ্ভুত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার দেওয়ানসরাই গ্রাম...

ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ প্রোটিয়াদের, জয়ের মধ্যেও ভারতের চিন্তা বোলিং

রাঁচিতে প্রথম একদিনের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৭ রানে জয় পেল ভারত(India vs South Africa)। ভালো ব্যাটিং করলেও...

বিজেপি রাজ্য সভাপতির সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ‘লাইক’ করলেন কোন তৃণমূল নেতা!

বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় নেতা কর্মীদের এসআইআর ইস্যু নিয়েই মাঠে নামিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বুথ স্তরের...