Petrol Price: জ্বালানির দামে আগুন, বাইক ছেড়ে ঘোড়া কিনলেন যুবক!

বাইকে প্রতিদিন পেট্রোল ভরতে খরচ প্রায় ২৫০টাকা। একটি সুস্থ ঘোড়া পিছু প্রতিদিন ৩০০টাকা খরচ করলেই যখন যথেষ্ট

আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম। নিজের শখের বাইকে প্রতিদিন পেট্রোল (Petrol) ভরতে খরচ প্রায় ২৫০টাকা। সঙ্গে তেল পুড়িয়ে বিশ্ব উষ্ণায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া। এই দুই থেকে মুক্তি মিলতে ঘোড়াই কিনে ফেললেন এক যুবক। এখন পরিবেশ বান্ধব সেই ঘোড়ায় চেপেই প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সারছেন তিনি। পাশাপাশি, নব প্রজন্মের অনেককেই অশ্বারোহী করে তুলতে সাহায্যও করছেন ওই যুবক।

ঘোড় সওয়ারি হিসাবে পরিচিত ওই যুবকের বাড়ি চুঁচুড়া (Chunsira) থানার ব্যান্ডেল বলাগড় রোডে। এই এলাকার বাসিন্দা তথা প্রাক্তন ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মী দীপককুমার রায় ও মিনতি রায়ের পুত্র অলোককুমার রায় (Alok Kumar Ray)। বছর ঊনত্রিশের অলোক প্রায় বছর আটেক ছিলেন সৌদি আরবে। সেখানে একটি কোম্পানির হেভি ইকুইপমেন্ট অপারেটর হিসাবে কাজ করতেন। ২০২০-র করোনাকালে সেখানকার পাঠ চুকিয়ে দেশে ফেরেন অলোক। তবে সেখান থেকে ঘোড়ার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে ফেরেন তিনি। বাইক প্রেমী অলোকের একাধিক দামী বাইক রয়েছে। বাকিগুলো অন্যত্র থাকলেও নিজের বাড়িতে রয়েছে একটি রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট। বাড়িতে আসার পর থেকে এই বুলেট নিয়েই নিত্য প্রয়োজনে কাজকর্ম সারতেন তিনি। কিন্তু ইদানীং পেট্রোলের উর্দ্ধমুখী দামের জেরে বাইক প্রেমে ভাটা পড়তে শুরু করে। একদিকে বেডে চলা তেলের দাম তার উপর গাড়ি চালিয়ে বিশ্ব উষ্ণায়নের আগুনে ঘি ছেটানো থেকে মুক্তি মেলার ভাবনা শুরু করেন অলোক। তখনই সৌদিতে ঘোড়-সওয়ারির শেখা অলোকের মাথায় আসে ঘোড়ার কথা। তিনি ভাবতে থাকেন আপাতত বাইক গ্যারেজ বন্দি করে যদি ঘোড়ায় চেপেই প্রয়োজনীয় কাজ সাড়া যায় তাহলে একদিকে যেমন টাকা বাঁচবে, তেমনই বিশ্ব উষ্ণায়নের দায় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া যাবে। পাশাপাশি ইচ্ছুক ব্যাক্তিদের ঘোড় সওয়ারির প্রশিক্ষন দিয়ে করোনাকালে কাজ হারানো অলোকের উপার্জনও হবে। সেইসমস্ত ভাবনা থেকেই প্রথমে চলতি বছর জন্মাষ্টমীর দিন কলকাতার হেস্টিংস থেকে ২লক্ষ ২০হাজার টাকা দিয়ে কাটিয়াওয়ারা প্রজাতির একটি ঘোড়া কিনেন অলোক।

ঘোড়ার (Hours) নাম দেন রাজু। নিজের বাইকগুলি গ্যারেজ বন্দি করে পেট্রোলের টাকায় ঘোড়াকে খাওয়ানো শুরু করেন তিনি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অলোকের পোষ মানাতে বেশি সময় নেয়নি রাজু। এরপরই অলোকের কাছে ঘোড় সওয়ারির প্রশিক্ষণ নিতে বেশকিছু তরুণ-তরণী ভর্তি হন। চাহিদা দেখে চলতি মাসের কালীপুজোর দিন হেস্টিংস থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে আরও একটি ঘোড়া কিনে আনেন অলোক। মারোয়াড়ি প্রজাতির মেয়ে জাতের ওই ঘোড়ার নাম দেন মুসকান। মুসকানের বয়স সাড়ে চার বছর। আপাতত এই ঘোড়ায় চেপেই কাছেপিঠে কাজ সারছেন অলোক।

অলোকের বক্তব্য, “বাইকের পেট্রোল কিনতে প্রতিদিন আমার প্রায় ২৫০টাকা খরচ হত। উল্টে তেল পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণের ভাগীদার হতাম। তাই ভাবলাম একটি সুস্থ ঘোড়া পিছু প্রতিদিন ৩০০টাকা খরচ করলেই যখন যথেষ্ট তখন বাইক রেখে পরিবেশ বান্ধব ঘোড়া চাপাই ভালো। কলকাতা ছাড়া হর্স রাইডিং প্রশিক্ষণ রাজ্যে হয় না বললেই চলে। তাই চাহিদাও বেশ ভালো। ইচ্ছা আছে সকলের সহযোগিতা মিললে আমি ব্যান্ডেলে একটি হর্স রাইডিং ক্লাব খুলব।”

অলোকের ঘোড়ার টগবগ শব্দে মাতাচ্ছে ব্যান্ডেল সহ আশপাশ এলাকা। অনেকেই এখন অলোকের কাছে প্রশিক্ষণ নিতে আসছেন। অলোকের কাছে শিক্ষানবিস সঞ্জনা মজুমদার বলেন, “কলকাতা ছাড়া হর্স রাইডিং শেখার উপায় নেই। তাই ইচ্ছা থাকলেও উপায় ছিল না। কিন্তু এলাকায় এধরনের সুযোগ পেয়ে আমার বাবাই এখানে ভর্তি করে দিয়েছে”। এখন অলকের এই উদাহরণ দেখআর কেউ অনুপ্রাণিত হন কি না সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন- Tripura: একনজরে ত্রিপুরা পুরভোটে দিনভর প্রহসনের খণ্ডচিত্র, গণতন্ত্রের লজ্জা

 

Previous articleTripura: একনজরে ত্রিপুরা পুরভোটে দিনভর প্রহসনের খণ্ডচিত্র, গণতন্ত্রের লজ্জা