পথকুকুর মামলায় বড়সড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কোনও পথকুকুর যদি ‘পাগল’ বা অতিরিক্ত হিংস্র হয়ে ওঠে, তবে আইন মেনে তাকে নিষ্কৃতিমৃত্যু দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে জনবহুল জায়গা থেকে পথকুকুর সরানোর বিষয়ে গত বছরের দেওয়া নির্দেশও বহাল রেখেছে আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়। গত বছরের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, রাস্তাঘাট, পার্ক, হাসপাতাল ও রেলস্টেশনের মতো জনবহুল এলাকা থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে ফেলতে হবে। এই নির্দেশকে নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয় এবং রায় সংশোধনের আর্জি জানিয়ে একাধিক আবেদন জমা পড়ে। তবে মঙ্গলবার শুনানির পর সেই সমস্ত আবেদন খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আরও পড়ুন: কেন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন না নরেন্দ্র মোদি, নরওয়েতে প্রশ্নের মুখে প্রধানমন্ত্রী
মামলার শুনানিতে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, কুকুরের কামড় খাওয়ার ভয় ছাড়া সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারও আসলে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের (Right to Life) মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। আদালত জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পথচারী, শিশু এবং বয়স্করা পথকুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন। এই কঠোর বাস্তব পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। রাস্তাঘাটে অবাধে কুকুরের ঘুরে বেড়ানো এবং তার ফলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে জানিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে,”যে সব এলাকায় পথকুকুরের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, সেখানে প্রশাসনকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে পশুদের উপর নিষ্ঠুরতা দমন আইন এবং পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি (ABC Rules) মেনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে কোনো কুকুর পাগল হয়ে গেলে, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে তাকে নিষ্কৃতিমৃত্যু দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

দেশের সবকটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন পথকুকুরদের এই উপদ্রব ও সমস্যা মোকাবিলার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলে। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরের রায় পুনর্বিবেচনার এই আবেদনগুলির ওপর দীর্ঘ শুনানির পর গত ২৯ জানুয়ারি রায়দান স্থগিত রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট। ওই শুনানির সময় পঞ্জাব, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলি এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কী ভূমিকা নিয়েছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল আদালত। অবশেষে মঙ্গলবার চূড়ান্ত রায় দিয়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিল যে, পশু অধিকারের পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তার অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

–

–

–

–

–
–
–
