রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ওকাম্পোর সম্পর্কের সমীকরণ এবার সেলুলয়েডে

দীর্ঘ সময়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আর্জেন্টিনার লেখক ওকাম্পোর এক বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু সেই সম্পর্ককে কেউ কোনও দিন কোনও নাম বা স্বীকৃতি দিতে পারেননি হয়তো। তাই সেই নামহীন সম্পর্ক নিয়ে প্রবল ধোঁয়াশা আজও। কেউ মনে করেন প্রেম, কেউ বা বন্ধুত্বের তকমা দেন, কিন্তু রবি ঠাকুর বা ওকাম্পোর সেই সম্পর্কের কথা দু'জনের কেউই কখনও প্রকাশ্যে আনেন নি।

সম্পর্কের নামকরণ ঠিক কতটা জরুরি? নাম না জানা সম্পর্করা কি গল্প হয়ে উঠতে পারে কোনও দিন? ঠিক এইরকম কিছু ভাবনা মাথায় আসে আর্জেন্টিনাবাসী পরিচালক পাবলো সিজারের। রবি ঠাকুর তাঁর খুব প্রিয় আর আর্জেন্টিনার লেখক ওকাম্পোর (Victoria Ocampo)সাথে বিশ্বকবির ( Rabindranath Tagore)সম্পর্কের গল্পটা এবার তাই চিত্রনাট্যের আকারে সাজিয়েই ফেললেন, নাম দিলেন “থিঙ্কিং অফ হিম”(THINKING OF HIM)। এবার বড়পর্দায় সেই ছবির আত্মপ্রকাশ।

প্লাস্টিকের বোতল পুনরায় ব্যবহারে অভিনব ভাসমান পরিবেশবান্ধব দ্বীপ

কবিগুরু (Rabindranath Tagore) আর আর্জেন্টিনার লেখক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর (Victoria Ocampo) সম্পর্ক ঠিক কেমন ছিল, এই নিয়ে রবীন্দ্রঅনুরাগীদের মধ্যে কিছুটা কৌতূহল আছে। এবার রবি ঠাকুরের সুদূর আর্জেন্টিনার সাথে সম্পর্ক নিয়ে আসছে বড় ছবি। কেমন হবে গল্প?কিছুটা আঁচ পাওয়া গেল বটে। “থিঙ্কিং অফ হিম”(THINKING OF HIM) ছবির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শিল্পীরা বলছেন এই গল্প ১৯২৪ সালের রবিঠাকুরের বিদেশ যাত্রা নিয়ে। তখন জলপথে পেরুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু জাহাজেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন নোবেলজয়ী সাহিত্যিক। সেই সময়ে জাহাজটি আর্জেন্টিনা পেরোচ্ছিল। গুরুদেব জাহাজে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে খবর। ততক্ষণে কানাঘুষো শুরু হয়ে গেছে, খবর গেল আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এয়ারেসের অভিজাত পরিবারের মেয়ে ওকাম্পোর কানে। তত দিনে রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’র (Gitanjali)ফরাসি অনুবাদ পড়া শেষ করে ফেলেছেন তিনি। নিজে একজন লেখন, তাই ‘গীতাঞ্জলি’র মুগ্ধতায় বিভোর হয়েছিলেন আগেই। মনে মনে একটা বিশেষ জায়গা যেন তৈরি হয়ে গেছে বিশ্বকবিকে নিয়ে। রবীন্দ্রনাথের অসুস্থতার খবর শোনা মাত্রই তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য সব ব্যবস্থা করে ফেলেন ওকাম্পো। এরপর এক অন্য জীবন। বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। আর্জেন্টিনার সংস্কৃতি মহল তখন দেখে ষাটোর্ধ রবীন্দ্রনাথের সেবায় নিজেকে কীভাবে নিমগ্ন রেখেছেন বছর চৌত্রিশের লেখক ।

সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর ১৯২৫ সালের জানুয়ারি মাসে আর্জেন্টিনা থেকে বিদায় নেন রবীন্দ্রনাথ। বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের মতে, এই দীর্ঘ সময়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আর্জেন্টিনার লেখক ওকাম্পোর (Victoria Ocampo)এক বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু সেই সম্পর্ককে কেউ কোনও দিন কোনও নাম বা স্বীকৃতি দিতে পারেননি হয়তো। তাই সেই নামহীন সম্পর্ক নিয়ে প্রবল ধোঁয়াশা আজও। কেউ মনে করেন প্রেম, কেউ বা বন্ধুত্বের তকমা দেন, কিন্তু রবি ঠাকুর বা ওকাম্পোর সেই সম্পর্কের কথা দু’জনের কেউই কখনও প্রকাশ্যে আনেন নি। এই সব গল্পগুলো সেলুলয়েডে ফুটিয়ে তুলেছেন পাবলো সিজার। এই ছবিতে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকায় দেখা যাবে বাঙালি অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়কে(Victor Banerjee)। ওকাম্পোর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আর্জেন্টিনার অভিনেত্রী এলিওনোরা ওয়েক্সলার (Eleonora Wexner)। ছবিতে দেখা যাবে রাইমা সেনকেও (Raima Sen)।

জনসন- সুরজ ফিল্মস ইন্টারন্যাশানাল এবং সিজার প্রোডাকশনের উদ্যোগে এবার ভারত-আর্জেন্টিনার যৌথ সহযোগিতায় তৈরি এই ছবি ১৬১ তম রবীন্দ্রজন্মবর্ষে (161st birth anniversary)মুক্তি পেতে চলেছে। তার আগেই ৪ মে কলকাতার আইসিসিআর(ICCR)প্রেক্ষাগৃহে এই ছবির স্পেশ্যাল স্ক্রিনিং অনুষ্ঠিত হবে।

Previous articleপ্লাস্টিকের বোতল পুনরায় ব্যবহারে অভিনব ভাসমান পরিবেশবান্ধব দ্বীপ