বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, প্রায় ৪৫ লক্ষ মানুষ ভিটেমাটি-ছাড়া; মৃত ৩২

ছবি সৌজন্যে- রয়টার্স

বিশেষ প্রতিনিধি,ঢাকা: বৃষ্টি থামার কোনও লক্ষণ নেই। একনাগাড়ে হয়েই চলেছে বৃষ্টি।সময় যত গড়াচ্ছে বন্যাবিপর্যস্ত বাংলাদেশের পরিস্থিতি ততই অবনতি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। অন্তত ৪৫ লক্ষ মানুষ ভিটেমাটি-ছাড়া। উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে যাচ্ছে তারা।

সাধারণ মানুষের মধ্যে খাবারের জন্য হাহাকার। যদিও স্থানীয় প্রশাসন দুর্গত মানুষকে শুকনো খাবার দিয়ে সাহায্য করছে। বিপর্যয় মোকাবিলা ও ত্রাণ বিষয়ক মন্ত্রী এনামুর রহমান জানান, মেঘালয় ও অসমের প্রবল বৃষ্টিতে বাংলাদেশে বন্যা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সিলেট ও সুনামগঞ্জের। গোটা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে এই দুই অঞ্চল। সিলেটে রেল যোগাযোগ স্তব্ধ। বন্ধ বিমান ওঠানামাও। গত ১২২ বছরে এমন পরিস্থিতি দেখেনি বাংলাদেশের মানুষ।

আরও পড়ুন- WBPS-WBCS-এ ২০০ নিয়োগ, রাজ্য পুলিশ সার্ভিসের জন্য পৃথক সংগঠন গড়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বন্যার জলে তড়িতাহত হয়ে শুধু সিলেটে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। গোটা দেশে তড়িতাহত হয়ে ২১ জন মারা গিয়েছেন। সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবেরিয়া ও বাংলাদেশের উত্তর অংশে ভয়াবহ পরিস্থিতি। সরকারের পক্ষ থেকে সাবধান করা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টাতেও পরিস্থিতি বদলের কোনও লক্ষণ নেই। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে জল নেমে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

সিলেটে অন্তত ৩ লক্ষ মানুষ ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যাকবলিত অঞ্চলে আটকে কমপক্ষে ১৬ লক্ষ শিশু।যাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, এমন অনেকেই বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে কোনও মতে দিন কাটাচ্ছেন। খাবার নেই, পানীয় জল নেই, প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই। জলের নীচে হাসপাতালও। মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগও নেই বহু জায়গায়। সব মিলিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বাংলাদেশের বন্যা বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে।

Previous articleAfganistan: ভূমিকম্পের পর বন্যা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত আফগানিস্তান