ডিএনএ – এর ডেটাবেস তৈরি করে বিবর্তনের ধারা খুঁজতে উদ্যোগী কেন্দ্র 

ভারতীয় নৃতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (Anthropological Survey of India) এই কাজ করছে। ‘ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড পলিমরফিজম অফ কনটেম্পরারি ইন্ডিয়ান পপুলেশনস’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে তারা।

বংশগত পরিচয় জানতে হলে ডিএনএ টেস্টের(DNA test) কথাই সবার আগে মনে আসে। এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে এবার বিবর্তনের ধারা এবং আদি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস খুঁজতে তৎপর কেন্দ্রের বিজেপি (BJP) সরকার। লোকসভায় এই বিষয়ে স্পষ্ট করে জানালেন কেন্দ্রের সংস্কৃতি মন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি (Culture Minister G Kishan Reddy) ।

মানুষ এবং অন্যান্য প্রায় সমস্ত জীবের বংশগত উপাদান ডিএনএ-এর (DNA) মধ্যে থাকে। এবার সেই ডিএনএ নিয়ে বিশ্লেষণ করা শুরু করছে কেন্দ্র। কিষান রেড্ডি জানান, দেশের জনজাতি জনসংখ্যার একটি ডিএনএ ডেটাবেস (DNA database) তৈরি করার উদ্দেশ্যে এই প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় নৃতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (Anthropological Survey of India) এই কাজ করছে। ‘ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড পলিমরফিজম অফ কনটেম্পরারি ইন্ডিয়ান পপুলেশনস’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে তারা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জনসংখ্যার জিনোমিক বৈচিত্র্য (Genomic diversity) জানা সম্ভব। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, পলিমরফিজম (Polymorphism) বলতে নির্দিষ্ট ডিএনএ সিকোয়েন্সের দুই বা ততোধিক রূপের উপস্থিতি বোঝায় যা বিভিন্ন ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘটতে পারে। কিন্তু হঠাৎ ডিএনএ সিকোয়েন্স নিয়ে কেন এত মাথাব্যথা নয়া দিল্লির? তাহলে কি ভারতীয়দের জিনগত পরীক্ষা করে দেশের জনজাতির মধ্যেও মেরুকরণ করতে চাইছে মোদি সরকার? মন্ত্রীর যুক্তি আসলে মানুষের স্বার্থেই এই কাজ করা সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। তিনি বলছেন, বিভিন্ন রোগব্যাধি কীভাবে বিভিন্ন সময়ে মানুষের অভিবাসনকে প্রভাবিত করেছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সেই তথ্যও জানার চেষ্টা হচ্ছে। এএসআই (ASI) জানিয়েছে, ৭৫টি জনজাতির ৭৮০৭টি রক্তের নমুনা নিয়ে প্রাথমিক কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এই সমীক্ষার মাধ্যমে আধুনিক সভ্যতার প্রসারে ভারতীয় উপমহাদেশের অবদানের বিষয়ে অনেক অজানা তথ্যই সামনে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।


Previous articleআমাদের মুড়ি ফিরিয়ে দাও নইলে বিজেপি বিদায় নাও: মঞ্চে মুড়ি ও সিলিন্ডার এনে সরব মমতা