দিল্লিতে দুর্গাপুজো বন্ধের চক্রান্ত ! ১৭ হাজারের ভাড়া এবার ৬০ লাখ টাকা ! মাথায় হাত উদ্যোক্তাদের

পুরো বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ স্তরে দরখাস্ত করছেন উদ্যোক্তারা৷

ভাড়া ছিল ১৭ হাজার, হয়েছে ৬০ লাখ টাকা ! ভাবতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। দাবি করছেন দিল্লির বাঙালি দুর্গাপুজো উদ্যোক্তারা৷

কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লির যাবতীয় সরকারি পার্কে যেখানে বাঙালিরা দুর্গাপুজোর আয়োজন করে থাকেন, সেই পার্কগুলির অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধিতে মাথায় বাজ রাজধানীর বাঙালি দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের৷ পরপর দু’বছর করোনার প্রভাব কাটিয়ে এবার বড় করে মা দুর্গার আরাধনা করার কথা ভেবেছিলেন যাঁরা, রাজধানীর সেই সব পুজো উদ্যোক্তারা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছেন দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (DDA) চিঠি পেয়ে, যেখানে জানানো হয়েছে সরকারি পার্কের অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধির কথা৷ পুরো বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ স্তরে দরখাস্ত করছেন উদ্যোক্তারা৷

ইতিমধ্যেই দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তারা জানতে পেরেছেন আজ দিল্লিতে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নিজেদের সমস্যা নিয়ে তাঁর সঙ্গেও দেখা করতে চান বারোয়ারি পুজো কমিটির প্রধানরা৷

উদ্যোক্তাদের একাংশের প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে পাড়ায় পাড়ায় কালীপুজো আর দুর্গাপুজো করতে চাইছে BJP, অথচ দেশের রাজধানী দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের এহেন আচরণ কেন?
কেন এবং কী ভাবে তাঁরা সমস্যায় পড়ছেন, খোলাখুলিই জানিয়েছেন দিল্লির পরিচিত পুজো উদ্যোক্তারা। তাদের কথায়, “আগে আমরা ৫৯০০ বর্গ মিটারের DDA পার্ক ভাড়া নিয়ে দুর্গা পুজো করতাম, যেখানে খরচ হত ১,০৭,০০০ টাকা৷ এর মধ্যে সিকিউরিটির ডিপোজিট হিসেবে নেওয়া ৯০,০০০ টাকা পরে আমাদের ফেরত দেওয়া হয়েছে৷ সেই হিসেবে আমাদের ভাড়া বাবদ খরচ হয়েছে ১৭,০০০ টাকা৷ এবার একই আয়তনের DDA পার্ক ভাড়া নিয়ে দুর্গা পুজো করতে গেলে আমাদের খরচ হবে ষাট লক্ষ টাকার বেশি, কারণ DDA জানিয়েছে ৪৫ দিনের জন্য তারা পার্ক ভাড়া দেবে, যেখানে দিনে প্রতি বর্গ মিটার বাবদ সরকারকে ভাড়া দিতে হবে ২৪ টাকা৷ এর সঙ্গে যদি পার্কের ভিতরে রান্নাবান্না করা হয়, তা হলে আমাদের সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে অতিরিক্ত ১০ লক্ষ টাকা৷ এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথা থেকে পাব, সেটা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছি না৷”

কেন্দ্রীয় সরকারের নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্ত সংস্থা DDA-র এই ধরনের সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হবেন বাঙালি প্রধান চিত্তরঞ্জন পার্ক, করোলবাগ, ময়ূর বিহার সহ দিল্লির বিস্তীর্ণ অংশের পুজো উদ্যোক্তারা৷ সমস্যার সমাধান না হলে যন্তরমন্তরে ধর্নার ভাবনাও আছে তাঁদের। এই প্রসঙ্গেই তাঁর সংযোজন, “ইউনেসকো ইতিমধ্যেই দুর্গাপুজোকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা দিয়েছে, যা গোটা দেশকে গর্বিত করেছে৷ তারপরেও কীভাবে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে এমন ভাবে সরকারি পার্কের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয় ?”

 

 

Previous articleশিবের মাথায় জল ঢালতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ১০, আহত ১৬