ফলাহারে পার্থর মাসিক ব্যয় আড়াই লক্ষ! ফলের হিসেব নিয়ে তদন্তে ইডি

ফলাহারের জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মাসিক ব্যয় চোখ কপালে তোলার মতো। ইডি সূত্রে খবর, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শুধুমাত্র ফলের খরচ ছিল মাসে আড়াই লক্ষ টাকা। নিউমার্কেট থেকে নাকতলার বাড়িতে প্রতিদিন টাটকা ও দামি দামি ফল নিয়ে আসতো

পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে খাদ্যরসিক তা ঘনিষ্ঠ মহলে কারও অজানা নয়। দুর্নীতি মামলায় এখন প্রবল চাপের মধ্যে ইডি হেফাজতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু হেফাজতেও পার্থর রসনাবিলাসের কীর্তিকাহিনি বেরিয়ে আসতেই শুরু হয়েছে নানা ধরণের চর্চা। যেমন রবিবার দুপুরের মেন্যুতে পাঠার মাংসের আবদার করেছিলেন। রোজ বিকেলে আবার তেলেভাজা খেতে চাইছেন। যদিও চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে তাঁদের নির্দেশ মতোই ডায়েট হচ্ছে পার্থবাবুকে। নিয়ম করে সকাল-বিকেল দেওয়া হচ্ছে ফল, মুসম্বির জুস।

ফল না খেয়েই তিনি থাকতে পারেন না। এবার সেই ফল তাঁকে আরও বিপাকে ফেলে দিয়েছে। ফলাহারের জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মাসিক ব্যয় চোখ কপালে তোলার মতো। ইডি সূত্রে খবর, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শুধুমাত্র ফলের খরচ ছিল মাসে আড়াই লক্ষ টাকা। নিউমার্কেট থেকে নাকতলার বাড়িতে প্রতিদিন টাটকা ও দামি দামি ফল নিয়ে আসতো। দিনে প্রায় ৮ হাজার টাকা ফলবাবদ খরচ হতো তাঁর।

কিন্তু কী এমন ফল খেতেন পার্থ? মাসে যার জন্য খরচ আড়াই লক্ষ! সন্দেহ হওয়াতেই ফলাহারের পিছনে পার্থর বিপুল অঙ্কের খরচ নিয়ে খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেন
ইডি আধিকারিকরা। তাঁরা জানতে পারেন নিউমার্কেট থেকে এক ব্যক্তি প্রতিদিন পার্থর নাকতলার বাড়িতে ফল নিয়ে আসতেন। দিনের দিনই তাঁর বিল মেটানো হতো। কোনওদিন ৭ তো কোনওদিন ৮ আবার কোনও কোনও কোনওদিন ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ফলের বিল মিটিয়েছেন পার্থ। মাসের হিসেবে গড়ে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। এবং সেটা বছরের পর বছর ধরে।

ইডি আধিকারিকরা মনে করছেন, এই ফলকে সামনে রেখেও দুর্নীতি হয়েছে। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করতেই বিপুল টাকা ফলের হিসেব বাবদ দেখানো হতো।

এদিকে, আগামিকাল বুধবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় দফায় ইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। কিন্তু এই দু’জনকে জেরা করে আরও বেনামি সম্পত্তির হদিশ মিলবে বলেই মনে করছেন ইডি আধিকারিকরা। প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাই দু’জনকে আরও কিছুদিন হেফাজতে রাখতে চায় ইডি। সেই কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা বা ধারা যোগ করার বিষয়েই আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

আরও পড়ুন:মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ৯/১১ হামলার অন্যতম চক্রী, জানালেন বাইডেন

 

 

Previous articleমার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ৯/১১ হামলার অন্যতম চক্রী, জানালেন বাইডেন