সরকারি নোটিশে কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ১১৭ ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ধারা অনুযায়ী, কোনও পুরসভা যদি নিজের দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা দেখায় বা ধারাবাহিক ভাবে কর্তব্যে ব্যর্থ হয়, তবে রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই পুরসভাকে ভেঙে দিয়ে ক্ষমতা নিজের হাতে নিতে পারে। নবান্নর দাবি, বর্তমান অচলাবস্থার জেরে মহানগরের নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং তা জনস্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। সেই কারণেই আইন মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করার আগে পুরসভার আনুষ্ঠানিক মতামত চাওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে পুর কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পুরসভার পক্ষ থেকে জবাব জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এই নোটিশ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কলকাতা পুরসভাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে তৎপরতা শুরু হয়েছিল। মেয়রের পদত্যাগকে অস্ত্র করে এবার পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত মিলছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। শাসক শিবিরের বক্তব্য, শহরের নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয় এবং পুরসভার কাজে যাতে শূন্যতা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই আইন অনুযায়ী এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আপাতত সবার নজর পুরসভার জবাবের দিকে। তিন দিনের মধ্যে কলকাতা পুরসভা কী ব্যাখ্যা দেয় এবং তার ভিত্তিতে রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত পুরসভা ভেঙে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।
আরও পড়ুন- চোখ বন্ধ করে থাকতে পারব না: মমতার পাশে থেকেই বার্তা কুণালের
_
_
_
_
_
_
_
















