বাগবাজার সার্বজনীনে (Bagbazar Sarbojanin) এবারও ফিরছে সাবেকিয়ানার দুর্গোৎসব। পুজো ঘিরে যাবতীয় অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে রবিবাসরীয় সকালেই হয়ে গেল খুঁটিপুজো। বৃষ্টিভেজা পরিবেশে ঢাকের বাদ্যিতে শুরু হল ১০৮ বছরের পুজোর প্রস্তুতি। হাতে আর ২৮ দিন। চতুর্থীতে ধুমধাম করে উমার বোধন হবে বলেই জানাচ্ছে পুজো কমিটি।

এবার বাগবাজারের পুজোয় মণ্ডপ তৈরির আগেই আলোচনায় উঠে এসেছিল কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ। ৩০ অগাস্ট আদালতের নির্দেশে দুই পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে নির্বাচন হলেও সম্পাদক পদে কোনও ফল বেরোয়নি। গৌতম নিয়োগী এবং ভাস্কর নিয়োগী—দুই ভাই-ই পেয়েছিলেন ৩৩টি করে ভোট। কার্যকরী সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও চার প্রার্থী ৩২টি করে ভোট পাওয়ায় জট আরও বাড়ে। এরপর সভাপতি পদে কাস্টিং ভোটের ব্যবহার নিয়ে আপত্তি এবং পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ ঘিরে মামলা গড়ায় হাই কোর্টে। ভোটের দিন অশান্তির অভিযোগও ওঠে।

শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তেই খুলে যায় জট। বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য (Justice Hiranmay Bhattacharyya) কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে সঠিক বলে জানিয়ে রবিশংকর সেনগুপ্তের আবেদন খারিজ করেন। ফলে পুজো পরিচালনা নিয়ে আইনি বাধার আশঙ্কা আর থাকল না। কমিটির সদস্যদের দাবি, শুরু থেকেই পুজো বন্ধ হওয়ার কোনও প্রশ্ন ছিল না; বিরোধ ছিল মূলত কমিটি গঠন ঘিরে। আদালতের রায়ের পর সেই পর্ব পেরিয়ে এখন পুরোদমে উৎসবের প্রস্তুতিতেই নজর দেওয়া হচ্ছে।

বাগবাজারের পুজোর আলাদা পরিচয় তার সাবেকিয়ানায়। ১৯১৯ সালে ‘নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপূজা’ নামে যাত্রা শুরু করার পর জায়গা বদলাতে বদলাতে স্থায়ী ঠিকানা পায় এই পুজো। ১৯৩২ সালে সোসাইটি অ্যাক্টে নথিভুক্ত হয় কমিটি। সময়ের সঙ্গে শহরের পুজোয় থিমের রমরমা বাড়লেও বাগবাজার সেই পথে হাঁটেনি। বনেদি রীতি, ঐতিহ্য এবং চিরচেনা আবহই এই পুজোর মূল আকর্ষণ। সেই পরিচয় অটুট রেখেই এবারও শহরকে শারদোৎসবের আমন্ত্রণ জানাতে তৈরি হচ্ছে বাগবাজার সার্বজনীন।