সেক্টর ফাইভমুখী (Sector V) মেট্রো যাত্রীদের জন্য সুখবর। অরেঞ্জ লাইনে বেলেঘাটা (Beleghata) পেরিয়ে আইটি সেন্টার (IT Center) পর্যন্ত পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগোল। রেলপথে প্রথম পুশ ট্রলি (Push Trolley) পরিদর্শন সফল হওয়ায় এখন নজর রেকের পরীক্ষামূলক দৌড়ের দিকে। সব পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হলে চলতি বছরের মধ্যেই এই অংশে মেট্রো চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চিংড়িঘাটার (Chingrighata) একটি ছোট অংশের কাজ নিয়েই কার্যত আটকে ছিল এই সম্প্রসারণ। ইএম বাইপাসের (EM Bypass) ব্যস্ততম চিংড়িঘাটা মোড়ে প্রায় ৩৬৬ মিটার অংশের কাজ এগোনো নিয়ে একাধিক জটিলতা ছিল। সেই জট কাটিয়ে এখন ট্র্যাক বসানো এবং পরিদর্শনের কাজ শেষ হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর বেলেঘাটা- আইটি সেন্টার অংশে পুশ ট্রলি চালিয়ে পরিকাঠামো পরীক্ষা করা হয়। মেট্রো সূত্রে খবর, ভায়াডাক্ট এবং ব্যালাস্টলেস ট্র্যাকের কাজ শেষ হওয়ায় পরবর্তী পর্যায়ে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কাজ এগোনোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ বার ধাপে ধাপে হবে রেকের ট্রায়াল (Rake trial)। তার পর লাইনের নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো খতিয়ে দেখবে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মিললেই যাত্রী পরিষেবা শুরুর ক্ষেত্রে আর বড় কোনও প্রশাসনিক বাধা থাকবে না। ২০১০ সালে অনুমোদন পাওয়া ৩২ কিলোমিটারের কবি সুভাষ-জয় হিন্দ বিমানবন্দর করিডরে ইতিমধ্যেই কবি সুভাষ থেকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং সেখান থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত পরিষেবা চালু রয়েছে। ফলে তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হলে অরেঞ্জ লাইনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যুক্ত হবে।
বেলেঘাটা থেকে আইটি সেন্টার পর্যন্ত মেট্রো চালু হলে দক্ষিণ কলকাতা, ইএম বাইপাস এবং সল্টলেকের মধ্যে যাতায়াতের ছবিটাই বদলে যাবে। বিশেষ করে সেক্টর ফাইভের অফিসপাড়ায় কর্মরত হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিনের যানজট পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে যে সময় এবং ঝক্কি নিতে হয়, তা অনেকটাই কমবে। কবি সুভাষের দিক থেকে অরেঞ্জ লাইনে উঠে সরাসরি সেক্টর ফাইভের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হবে। গৌরকিশোর ঘোষ, নলবন পেরিয়ে আইটি সেন্টার পর্যন্ত এই সংযোগ চালু হলে দক্ষিণ কলকাতা থেকে তথ্যপ্রযুক্তি তালুকে যাতায়াত আরও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠবে।
















