দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে কলকাতার পুজো মহলে এবার এক নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী সনাতন দিন্দার থিম ও প্রতিমা সজ্জায় সেজে ওঠা বেহালা ইয়ং মেন্স অ্যাসোসিয়েশন-এর একটি পুজো পোস্টার ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, ওই পোস্টারের মাধ্যমে প্রয়াত বিশ্ববরেণ্য তবলা বাদক ওস্তাদ জাকির হোসেনকে চরম অপমান করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠার পর অবশেষে চাপের মুখে পড়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে পুজো কমিটি।

আরও পড়ুন: সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের পরেই নড়চড়ে বসল প্রশাসন, রাজস্থানে ১২,৫০০ কোটির স্কুল সংস্কার পরিকল্পনা

চলতি বছরে ৭৭ তম বর্ষে পা দিয়েছে বেহালা ইয়ং মেন্স অ্যাসোসিয়েশন। এবারের পুজোয় তাদের ভাবনার থিম হলো ‘ছুটি’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর এই আধুনিক যুগে বর্তমান প্রজন্মের শৈশবের সাথে অতীতের শৈশবের যে বিস্তর ফারাক, তা-ই মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী সনাতন দিন্দা। এই থিমের প্রচারের উদ্দেশ্যেই সম্প্রতি ক্লাবের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি পোস্টার প্রকাশ করা হয়। বিতর্কের সূত্রপাত হয় তার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট পোস্টারকে কেন্দ্র করে। সেই পোস্টারে একটি তবলার ছবির পাশে লেখা ছিল ‘ফাঁকির হোসেন’। পোস্টারটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের দাবি, বিখ্যাত বিজ্ঞাপনের ‘ওয়াহ তাজ’ খ্যাত এবং ভারতের গর্ব, প্রয়াত প্রবাদপ্রতিম তবলা বাদক ওস্তাদ জাকির হোসেনের নামকে এভাবে বিকৃত করে ‘ফাঁকির হোসেন’ লিখে তাঁকে সরাসরি কটাক্ষ ও অপমান করা হয়েছে। একজন প্রতিথযশা শিল্পী কীভাবে অপর এক কিংবদন্তি শিল্পীকে এমন কুরুচিকরভাবে উপস্থাপন করতে দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে। 

আরও পড়ুন: ইমরানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ডাক, ঘোষণা হতেই গ্রেফতার বোন!

বিতর্ক বাড়তে থাকায় এবং নেটিজেনদের লাগাতার সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বেহালা ইয়ং মেন্স অ্যাসোসিয়েশন পুজো কমিটি। ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি পালটা বিবৃতি জারি করে বিষয়টির স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তারা তাঁদের বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কাউকে আঘাত করা বা কোন গুণী ব্যক্তিত্বকে ছোট করা তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁদের বক্তব্য, “আমরা শুধুমাত্র আমাদের এ বছরের বিষয় ভাবনার (থিম) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটা শিশুসুলভ উপস্থাপনা সবার সামনে তুলে ধরেছিলাম, যাতে সাধারণ মানুষের মনে পুজো নিয়ে একটু কৌতুহল তৈরি হয়। প্রবাদপ্রতীম কোন ব্যক্তিত্বকে ছোট করা বা কটাক্ষ করার কোনওরকম মানসিকতা বা অভিব্যক্তি আমাদের ছিল না।” এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে পুজো কমিটি আরও যোগ করেছে, “এই প্রচারের কারণে যদি কোনও কলাকুশলী বা কোনও ব্যক্তিবর্গ মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে আমরা তার জন্য নির্দ্বিধায় এবং আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।” এই পোস্টার তৈরির সঙ্গে শিল্পী সনাতন দিন্দা কোনভাবেই জড়িত নয় বলে ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন: "পরবর্তীতে সমস্যা হলে বলবেন না": মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যেতে না চাওয়া তরুণীকে হুমকির অভিযোগ

দুর্গাপুজোর থিম এবং সৃজনশীলতা নিয়ে কলকাতায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা নতুন কিছু নয়। তবে সৃজনশীলতার নামে কোনও গুণী মানুষকে অপমান করা সাধারণ মানুষ যে সহজে মেনে নেবেন না, বেহালার এই পুজো বিতর্ক আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।