রাজস্থানে সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি চালাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনটির দাবি, প্রত্যন্ত এলাকার বহু সরকারি স্কুলে এখনও ভবন, শ্রেণিকক্ষ, পানীয় জল এবং শৌচাগারের মতো মৌলিক পরিকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এবার এই কর্মসূচির মধ্যেই রাজস্থান সরকার সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন বছরে স্কুল পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১২,৫০০ কোটি টাকার রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। নতুন স্কুল ভবন ও শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর আগে রাজ্যের একটি স্কুল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে CJP-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বচসা ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ সামনে এসেছিল। সংগঠনের দাবি, তাদের কর্মীদের বাধা দেওয়া হয় এবং গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়। যদিও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছিল, গ্রামে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল। ঘটনার পর সরকারি স্কুলে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিয়ো করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করে রাজস্থান শিক্ষা দফতর। সরকারের বক্তব্য, পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। এদিকে CJP-র দাবি, তাদের ধারাবাহিক স্কুল পরিদর্শনের ফলে সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি সামনে আসছে, যা সরকারের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদয়পুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির সদস্যরা স্কুল পরিদর্শন করে সমস্যাগুলি নথিবদ্ধ করছেন। রাজস্থানের খেরওয়ারা বিধানসভা এলাকায় একাধিক আদিবাসী গ্রামে সরকারি স্কুল পরিদর্শনে যায় CJP-র একটি দল। সংগঠনের দাবি, পরিদর্শনে বেশ কিছু স্কুলে পরিকাঠামোগত ঘাটতি চোখে পড়েছে। কোথাও পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই, কোথাও আবার পড়ুয়াদের তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা কম। এমনকি কিছু এলাকায় স্কুলের জন্য জমি বরাদ্দ করা হলেও এখনও সেখানে ভবন তৈরি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও স্কুলের কিছু কাজ চালু রাখতে তাঁদের নিজেদের উদ্যোগে অর্থ ও অন্যান্য সংস্থান জোগাড় করতে হয়েছে। এমতাবস্থায়, CJP-র দাবি, ডেমাট, পংলি এবং বাবারি গ্রামের চালু থাকা স্কুলগুলিতেও শিক্ষক ও পরিকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। ডেমাটের প্রাথমিক স্কুলে প্রায় ৭০ জন পড়ুয়ার জন্য রয়েছেন কিন্তু মাত্র একজন শিক্ষক। স্কুলে থাকা দুটি শ্রেণিকক্ষের অবস্থাও ভালো নয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই স্কুলের অঙ্গনওয়াড়ি কক্ষটির অবস্থাও উদ্বেগজনক। তাদের বক্তব্য, ঘরটি অত্যন্ত জীর্ণ এবং ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্কুল ভবনেও দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য মেরামতি বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ।

তবে রাজ্য সরকারের পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা সরাসরি CJP-র কর্মসূচির ফল, সেই বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। সিজেপির উদ্যোগের পরেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে যদি সরকারের দায়িত্বজ্ঞান থাকতো তাহলে এত বছরে উন্নয়নের কথা কেন মনে হয়নি। এখন নজর বাস্তবে কত দ্রুত স্কুলগুলির উন্নয়নের কাজ শুরু হয়, সেই দিকেই।