গুরুগ্রামে (Gurugram) দিল্লির  যুবক যুবরাজ সিং মনচন্দের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ক্রমেই সামনে আসছে নতুন তথ্য। প্রাক্তন সহকর্মী অনয়া ভাট্‌স এবং তাঁর স্বামী সানিয়াম সচদেবের বিরুদ্ধে যুবরাজকে খুনের অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এবার দম্পতির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগেরও হদিস পেয়েছে। তদন্তকারীদের হাতে এসেছে একটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ কথোপকথন (Whatsapp Chat)।  যেখানে এক ব্যক্তিকে বউকে বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

আরও পড়ুন: উচ্চ মাধ্যমিকে আমূল বদল: OMR থেকে মূল্যায়নে নয়া ব্যবস্থা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের

গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন সহকর্মী অনয়ার সঙ্গে দেখা করতে গুরুগ্রামে গিয়েছিলেন যুবরাজ। তার পর থেকেই তাঁর খোঁজ মিলছিল না। কয়েক দিন পর গুরুগ্রামের একটি নর্দমা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে অনয়া ও সানিয়ামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ এখন হত্যার কারণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন এবং পরিচিতদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগও খতিয়ে দেখছে। তদন্তে সামনে এসেছে, অনয়া ও সানিয়ামের বিরুদ্ধে এক প্রাক্তন পরিচিতকে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী সানিয়ামের পুরনো স্কুলসঙ্গী তিনি বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ আধিকারিক। অভিযোগ, ২০২৪ সালে হোয়াট্‌সঅ্যাপে তাঁকে ভুয়ো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) নোটিশ পাঠানো হয়। ওই নোটিশের মাধ্যমে বোঝানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি তদন্ত চলছে। এরপর অনয়া এবং সানিয়াম নিজেদের প্রভাবশালী সরকারি মহলে যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

অভিযোগকারীর দাবি, এইভাবে ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। টাকা বিভিন্ন সময়ে অনয়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে আরও বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। অভিযোগ, তাঁকে বলা হয়েছিল সরকারি সংস্থাগুলির কাছে ইতিমধ্যেই বড় অঙ্কের টাকা জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেই টাকা ফেরত পেতে তাঁকেই আরও অর্থ দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে প্রায় ২৬ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এই অভিযোগের সূত্রেই সামনে এসেছে একটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ বার্তা। অভিযোগকারীর দাবি, টাকা ফেরতের জন্য তাঁকে এমন ভাষায় চাপ দেওয়া হয়েছিল যে প্রয়োজনে নিজের স্ত্রীকে বিক্রি করেও টাকা জোগাড় করতে বলা হয়। ওই কথোপকথন পুলিশ তদন্তের আওতায় নিয়েছে।

এখন তদন্তকারীদের নজরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—যুবরাজ কি এই কথিত প্রতারণার বিষয়ে কিছু জানতে পেরেছিলেন? পুলিশ সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের একটি অংশের সন্দেহ, কোনও গ্রাহক বা পরিচিতের সঙ্গে দেখা করানোর অছিলায় যুবরাজকে গুরুগ্রামে ডেকে আনা হয়ে থাকতে পারে। এরপরই তাঁকে খুন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়। তবে প্রতারণার অভিযোগের সঙ্গে যুবরাজ হত্যার সরাসরি যোগসূত্র এখনও নিশ্চিত হয়নি।