Sunday, June 7, 2026

ভারতের সাত রাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে তৎপর বাংলাদেশ 

Date:

Share post:

খায়রুল আলম,  ঢাকা

প্রতিবেশী  ভারতের সাত রাজ্যে নজর বাংলাদেশের। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সীমান্তসংলগ্ন এইসব রাজ্যের সঙ্গে যোগসূত্র ও বাণিজ্য বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ঢাকা। এর অংশ হিসেবে সদ্যসমাপ্ত দিল্লি সফরে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়নমন্ত্রী (ডোনার) জি কিষেন রেড্ডির সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর ওই বৈঠকে প্রতিবেশী সাত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ছাড়াও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে তাদের তিনদিনের জন্য ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বৃহত্তর সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও কুড়িগ্রাম অঞ্চল লাগোয়া এই সাত রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহত্তম হচ্ছে আসাম। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে আগেই ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাংলাদেশ।

ভারত সফরকালেই বিদেশ প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম দিল্লির বাংলাদেশ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি উল্লেখ করেন।  তিনি বলেন, শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স ফর টেরোরিজম নীতির ফলেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে আজ শান্তি ও উন্নয়নের জোয়ার বইছে। দিনকে দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যবসা ও বিনিয়োগ। নতুন নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে উঠছে। এটা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও বাংলাদেশ নট এ হাব অব টেরোরিস্ট ঘোষণার পর থেকেই।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গিয়েছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। কিন্তু তা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে যোগাযোগের স্বল্পতা।দিল্লিতে  ৭ সেপ্টেম্বরের ওই বৈঠকে সেই বাধাগুলো দূর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে কিষেন রেড্ডিকে বলেন, ‘আঞ্চলিক মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তারা যত বেশি সফর করবেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা তত দ্রুত বাড়বে।’দিল্লির ওই আলোচনায় কিষেন রেড্ডি সীমান্ত হাট চালুর প্রস্তাব করেন।

ভারতের পাঁচ সীমান্তবর্তী রাজ্যের সঙ্গে কথা বলে দুই দেশের মোট ৭০টি স্থান সীমান্ত হাটের জন্য চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ৩৫, মেঘালয়ে ২২, ত্রিপুরায় ৫ এবং আসাম ও মিজোরামে ৪টি করে।
কিষেন রেড্ডি জানান, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল চা চাষে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ এখান থেকে চা আমদানিতে আগ্রহী হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক টাই বাড়বে। দুই দেশই তাতে উপকৃত হবে। চা ছাড়া বেশকিছু খনিজ পদার্থ, সিমেন্ট, প্লাস্টিক পণ্য, বাঁশ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পর্যটন ও পরিষেবার ক্ষেত্র রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাত মুখ্যমন্ত্রী ঢাকা সফর করলে তা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচনে সাহায্য করবে। পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্কও দৃঢ় হবে।

Related articles

প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের মধ্যেই ধাক্কা ব্রাজিলের, চোট পেয়ে অনিশ্চিত নির্ভরযোগ্য ফুটবলার

বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জয় পেল ব্রাজিল(Brazil)। ব্রাজিলের হয়ে দু’টি...

১.৭৭ লক্ষ কোটির ঋণ! হিমন্ত সরকারের কীর্তিতে উদ্বিগ্ন আদালত

হিসাব বহির্ভূত অর্থ খরচ করেছে অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) বিজেপি সরকার (BJP Govt.)। সম্প্রতি ক্যাগ রিপোর্টে...

সরকারি হাসপাতালে ভুয়ো ডাক্তার! আবার সেই ডবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশের ছবি

বিজেপি জমানায় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় সড় প্রশ্নের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।...

ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি গেলেন মমতা

কাউন্সিলরদের বৈঠক বাতিল করে রবিবার দুপুরে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার বিরোধী...