Saturday, January 10, 2026

বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিমা,  চাইলেই বর দেয় লাল দুর্গা! 

Date:

Share post:

খায়রুল আলম, ঢাকা: ‘তুমি আমার কাছে বর (আশীর্বাদ) চাও। আমি তোমাকে বর দেব।’ এমনই আশ্বাস দিয়েছিলেন লাল দুর্গা। তিনি নাকি তার ভক্তকে যথাযথ বর প্রদান করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, লাল দুর্গা স্বয়ং অধিষ্ঠান করেন। এটি জাগ্রত প্রতিমা। জানলে অবাক হবেন, বাংলাদেশে যতগুলি দুর্গাপুজো হয় তার মধ্যে একমাত্র লাল বর্ণের দুর্গা মূর্তি এটি। লাল বর্ণের দেবী মূর্তি দেশের আর কোথাও নেই। যে কারণে এই প্রতিমার কাছে ভক্তদের অনেক আশা-আকাঙ্খা।

পুরাণ অনুযায়ী দেবী দূর্গার লাল রূপকে দেবী কাত্তায়নী, ষষ্ঠ অবতার দেব দুর্গার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেবী দুর্গার রূদ্র রূপকে প্রতিফলিত করে লাল রং। এ থেকে অনেকের ধারণা লাল রঙা দূর্গা দেবী জাগ্রত। রয়েছে আলাদা শক্তি। চাইলেই পাওয়া যায় বর। এই পুজো চালু করেন সর্বানন্দ দাস । তিনি তৎকালীন সরকারের অধীনে আসামের শিবসাগরে মুন্সি পদে চাকরি করতেন। ছিলেন সাধক পুরুষ। একবার আসামের কামরুপ-কামাক্ষ্যায় বেড়াতে গিয়ে পুজোর জন্য পাঁচ বছরের একটি মেয়ে চাইলে স্থানীয়রা তাকে একটি মেয়ে দেন। মহাষ্টমীর দিনে সর্বানন্দ দাস ওই মেয়েকে পুজো করার মনস্থ করেন, সেই সঙ্গে তার বাড়িতে পুজো সম্পন্ন করার জন্য তার স্ত্রী ও কর্মচারীকে নির্দেশ দেন।

ভগবতীর জ্ঞানে ছয় ঘণ্টা পূজা শেষে প্রণাম করার সময় সর্বানন্দ দেখেন, কুমারীর গায়ের রং পরিবর্তন হয়ে লালবর্ণ ধারণ করেছে। মেয়েটির মধ্যে স্বয়ং দেবী ভর করে। মেয়েটি তখন সর্বানন্দ দাসকে বলে, তুমি আমার কাছে বর (আশীর্বাদ) চাও। আমি তোমাকে বর (আশীর্বাদ) দেব। সর্বানন্দ দাস তখন তার কাছে বর (আশীর্বাদ) চাইলেন। দেবী তখন নির্দেশ দিলেন পাঁচগাঁওয়ের প্রতিমার রং হবে লাল। লাল রঙের প্রতিমা প্রসঙ্গে সর্বানন্দ দাস বংশের উত্তরাধিকারী সঞ্জয় দাস এমনটিই উল্লেখ করেন। সেই থেকে এখানে লাল বর্ণের মূর্তির পুজো হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন আনাচে কানাচে থেকে দেবী ভক্তরা এই লাল রঙের দূর্গা মূর্তিকে দর্শন করতে আসেন।

মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার ও রাজনগর উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার উত্তরে পাঁচগাঁও গ্রাম। সেই গ্রামে উদযাপিত হয় উপমহাদেশের একমাত্র লাল বর্ণের জাগ্রত দুর্গা দেবীর পুজো। এ ঐতিহ্য প্রায় তিনশত বছরের। উপমহাদেশের আর কোথাও লাল বর্ণের দুর্গাপূজা হয় না – জানালেন পাঁচগাঁও দুর্গাপুজোর পরিচালক সঞ্জয় দাস। দেবী দর্শনের জন্য উপমহাদেশের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, ময়মনসিংহসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে আসেন হিন্দু ধর্মালম্বী ভক্তরা। অষ্টমী ও নবমী পুজোর দিনে সেখানে এতো ভিড় থাকে যে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ ভক্তরারা পায়ে হেঁটে পুজো মন্ডপ দর্শনে যান। পুজোর সময় মহিষ বলির পাশাপাশি কয়েক শত পাঁঠা বলি দেওয়া হয়।

প্রতি বছর ষষ্ঠী থেকে দশমীর বিসর্জনের দিন পর্যন্ত পাঁচ দিনে দেবী দর্শনে লাখো ভক্তের পদচারণায় নীভৃত এই গ্রামটি হয়ে ওঠে কোলাহল মুখর পরিবেশ।হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুণ্যর্থীরা তাদের নানা মানত নিয়ে ছুটে আসেন। কেউ হোমযজ্ঞ দেন, কেউ প্রদীপ ও আগরবাতি জ্বালান। কেউবা পশু বলী দেন। পুজো মন্ডপকে ঘিরে আশেপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এখন মেলা বসে। কয়েকশত দোকানে বেচাকেনা হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলা বসে প্রতিবছর এখানে।প্রতিবছরই মৃৎশিল্পীরা সুন্দর সাজে সাজিয়ে তৈরি করেন এশিয়ার একমাত্র এই লাল প্রতিমা। আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে তারা আঁকেন দেবীর টানা টানা দুটি চোখ। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা না থাকলেও বংশপরম্পরায় অপরূপ সাজে নির্মাণ করেন দেশের একমাত্র দূর্গাদেবীর লাল প্রতিমা।

spot_img

Related articles

আজ বাঁকুড়ায় অভিষেকের রণসংকল্প যাত্রা ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে

বারুইপুর, আলিপুরদুয়ার, বীরভূম, মালদহ ঠাকুরনগরের পর এবার রণসংকল্প যাত্রায় শনিবার বাঁকুড়ায় সভা করতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।...

ক্ষুদিরাম বিতর্ক ভুলে টানটান ট্রেলারে চমকে দিল ‘হোক কলরব’! উন্মাদনা সিনেপ্রেমীদের

একদিকে সরস্বতী পুজো অন্যদিকে নেতাজির জন্মদিন, ২৩ জানুয়ারির মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে বক্স অফিসে  ‘হোক কলরব’ (Hok Kolorob) বার্তা...

বেলুড়মঠে সাড়ম্বরে পালিত স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথি উৎসব, মঙ্গলারতির পরেই শুরু বেদপাঠ 

১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) জন্মদিন হলেও পৌষ মাসের কৃষ্ণপক্ষের সপ্তমী তিথিতে তার আবির্ভাব উৎসব পালিত হয়।...

হিমাচলে বাস দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে ১৪, রাজস্থানের জয়পুরে অডির ধাক্কায় আহত একাধিক!

হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) সিরমৌর জেলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪। শুক্রবার দুপুরে সিমলা থেকে রাজগড় হয়ে...