Sunday, June 21, 2026

হিন্দমোটরের হিন্দুস্থান মোটর কারখানা ফেলে রাখা জমি অধিগ্রহণ শেষমুহূর্তে বাতিল প্রশাসনের

Date:

Share post:

ফেলে রাখা জমি অধিগ্রহণের কর্মসূচি শেষমুহূর্তে বাতিল করল জেলা প্রশাসন। আট বছর ধরে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কস হিন্দমোটরের হিন্দুস্থান মোটর কারখানা। সেই কারখানার অব্যবহৃত ৩৯৫ একর জমি অধিগ্রহণ করছে রাজ্যের ভূমি দফতর। সেই মতো বুধবার, সেই জমির অধিগ্রহণ (ফিজিক্যালি পজিশন) নির্ণয়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল হুগলি (Hoogli) জেলা প্রশাসন। অবশেষে সেই কর্মসূচি বাতিল হয়।

জেলাশাসক ও ভূমি দফতরের আধিকারিকরা যাবেন হিন্দমোটরে তর জেরে প্রস্তুত ছিল পুলিশও (Police)। হঠাৎই জেলা প্রশাসন এই কর্মসূচি বাতিল করে। জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া জানান, স্থানীয় কিছু সমস্যার জন্য তাই আজকে ফিজিক্যালি পজিশন নেওয়া বাতিল করা হয়েছে। পরে আলোচনা করে দিন ঠিক করা হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, জমি চিহ্নিত করা হয়ে গিয়েছে। সেই জমিতে সরকারি বোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হবে। প্রায় সাতশো একরের বেশি জমি রয়েছে হিন্দুস্থান মোটরের। তার মধ্যে তিনশো একর বেঙ্গল শ্রীরামকে দেওয়া হয়েছে আবাসন শিল্পের জন্য। কিছু জমিতে টিটগড় ওয়াগন যেটা রেলের কোচ তৈরি হয় তাদের কারখানা রয়েছে। সেই টিটাগড় ওয়াগান কারখানাতেই গত জুলাই মাসে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন শিল্পের কথা।

১৯৪৮ সালে উত্তরপাড়ায় হিন্দুস্থান মোটরের অ্যাম্বাসাডার কারখানা পথচলা শুরু করে। ২০১৪ সালে সাসপেনশান অফ ওয়ার্কের নোটিশ (Notice) ঝোলে। কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সেসময় প্রায় ২৩০০ শ্রমিক ছিলেন কারখানায় (Factory)। অনেক আন্দোলন শ্রমিক প্রতিবাদেও কারখানার গেট খোলেনি। হিন্দুস্থান মোটরের অব্যাহত জমিতে জঙ্গলে ভরে যায়। অবশেষে সরকার সেই জমি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রায় দু মাস শুনানির পর অবশেষে জমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়। এদিন সকাল থেকে পুলিশ মোতায়েন হতে দেখে শ্রমিক মহল্লায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। কারখানার জমিতে কারখানার দাবি স্থানীয়দের।

রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী (Snehashis Chakraborti) বলেন, বিধান রায়ের আমলে হিন্দমোটের জমি কারখানার জন্য লিজে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই কারখানা ধ্বংসস্তূপে পরে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী চান, যে সব কারখানার জমি পড়ে রয়েছে, সেই জমি নিয়ে শিল্পের কাজে লাগানো হোক। সেই ভাবেই হিন্দুস্থান মোটরের ৩৯৫ একর জমি সরকার নিয়ে সেখানে শিল্প তৈরি করবে। তার কাজ এগিয়ে গিয়েছে। যারা শিল্প করবে তাদের দেওয়া হবে। শিল্প করতে হবে। শিল্প হলে রাজ্যের উন্নতি হবে, GSDP বাড়বে। শিল্পের জন্য জমি নিয়ে ফেলা রাখা যাবে না। শিল্পই করতে হবে, সেই কাজটাই মুখ্যমন্ত্রী করছেন।

 

Related articles

আয়ুর্বেদ নিয়ে ঢাকঢোল কেন্দ্রের, ১২১ কোটিতে বেসরকারি হাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ সংস্থা 

একদিকে যখন দেশজুড়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবহার বাড়াতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে, ঠিক তখনই...

যোগের দিবসের আগে অভিনব ড্রোন শো, সাক্ষী মুখ্যমন্ত্রী

রবিবার দেশজুড়ে পালিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে কলকাতা। শুক্রবার সকাল থেকেই যোগ দিবসের কাউন্টডাউন শুরু...

সময়সীমা বাড়াতে নারাজ দিল্লি পুলিশ! শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে যন্তর মন্তরে অনড় দীপকে 

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম ঘিরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উত্তাপ আরও...

দিঘায় বোটিং দুর্ঘটনায় মৃত্যু পর্যটকের, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন 

দিঘায় বোটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের বাসিন্দা শেখ বাপনের (২৮)। শনিবার সকালে এই ঘটনাকে...