বিজেপির ‘লোক দেখানো নেতাজি প্রীতি’র পর্দা ফাঁস কুণালের

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে কলকাতা পুলিশ বা রাজ্য পুলিশের কাছে থাকা নেতাজি সংক্রান্ত ফাইলগুলি প্রকাশ্যে এনেছেন, সেটা কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার মুখে যাই বলুক না কেন সেই উদ্যোগ তাদের তরফে নজরে পড়েনি।

নেতাজির (Netaji Subhas Chandra Bose) বিশ্বাস-আদর্শের সঙ্গে আরএসএস (RSS) এবং সেই ঘরানার মতাদর্শের কোনও সম্পর্ক নেই। নেতাজি এদের উপর বিশ্বাসই করতেন না। একথা নিজেই জানিয়েছেন নেতাজি কন্যা অনিতা বসু পাফ (Anita Bose Pfaff)। এরপর কে কী বলবে সেটা তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। সোমবার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৬ তম জন্মবার্ষিকীতে বিজেপিকে কার্যত ধুয়ে দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। এদিন রেড রোডে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করতে সকাল সকাল পৌঁছে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সহ দলের একাধিক নেতা কর্মীরা। আর সেখানে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) আমলেই নাকি যোগ্য সম্মান পেয়েছেন নেতাজি। অন্য কোনও সরকার তাঁকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি। পাশাপাশি বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) গলাতেও শোনা যায় একই সুর। আর সেই প্রসঙ্গেই এবার সরব হলেন কুণাল।

এদিন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জানান, সর্ব ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতাজিকে চিরকাল শ্রদ্ধা জানিয়ে এসেছে যে নেতাজি পরিবারের দুজন বিশিষ্ট মানুষ দলের সাংসদ ছিলেন। বসু পরিবারকে কীভাবে সম্মান দিতে হয় সেটা তৃণমূল ভালো করেই জানে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যেভাবে কলকাতা পুলিশ বা রাজ্য পুলিশের কাছে থাকা নেতাজি সংক্রান্ত ফাইলগুলি প্রকাশ্যে এনেছেন, সেটা কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার মুখে যাই বলুক না কেন সেই উদ্যোগ তাদের তরফে নজরে পড়েনি। শুধুমাত্র একটা মূর্তি বসিয়ে তাও সেটা অর্ধেকদিন কার্যকর ছিল না এভাবে নেতাজির প্রতি সম্মান দেখানো যায় কী? পাশাপাশি মুখার্জি কমিশনও (Mukherjee Commission) তাইহোকু বিমানবন্দরের তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছেন।

 

কুণাল এদিন প্রশ্ন তোলেন, তবে কী গুমনামী বাবাই (Gumnami Baba) নেতাজি? এই তদন্তে কেন্দ্রের তরফে কোনও আগ্রহ এখনও চোখে পড়েনি। পাশাপাশি রেনকোজির মন্দির থেকে কেন নেতাজির ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে না? দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নেতাজিকে স্বীকৃতি দিক বিজেপি সরকার এবং সেই সমস্ত বিষয়গুলিকে পাঠ্য পুস্তকে তুলে আনা হোক।

 

তবে শুধু কুণাল ঘোষই নন, এদিন বিজেপি নেতাদের মন্তব্যের সমালোচনায় সরব বাম ও কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Choudhury) সাফ জানিয়েছেন, বিজেপি শুধু নির্বাচনের জন্য নেতাজিকে ব্যবহার করছেন। যারা নেতাজিকে কোনোদিনও মানেনি তারা এখন এসব করছে। আসলে বিজেপির হাতে সব আছে কিন্তু আইকন নেই, সেকারণেই বিজেপি এসব করছে। অন্যদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর (Sujan Chakraborty) অভিযোগ, নেতাজি রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে বাতিল করেছিলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে খারিজ করেছিলেন। আর সেসব প্রসঙ্গ এড়িয়ে বিজেপি বাহানা করে অযথা অসত্য বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

 

 

 

Previous articleBreakfast news :. ব্রেকফাস্ট নিউজ