Friday, April 3, 2026

রাম-বাম অশুভ আঁতাঁতকে ইভিএমে জবাব! সাগরদিঘিতে তৃণমূলের দিকেই পাল্লা ভারীর ইঙ্গিত

Date:

Share post:

পায়ের তলায় জমি নেই। বুঝতে পেরেই সাগরদিঘির উপনির্বাচনে রাম-বাম হাত মিলিয়ে ছিল। পিছিয়ে নেই কংগ্রেসেও। এই তিনটি দলের ভিতরের কঙ্কালসার চেহারাটা বেরিয়ে পড়েছে। অভিযোগ, দিনভর এরা একে অপরের হয়ে ভোট করিয়েছে। তারপরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের পক্ষেই মানুষ রায় দিয়েছেন বলে ইঙ্গিত। আগামী ২ মার্চ ফল প্রকাশের দিনই বিজেপি, সিপিআইএম ও কংগ্রেস নিজেদের অবস্থানটা বুঝতে পারবে বলে মত তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের।

তবে, সোমবার প্রত্যাশা মতো শান্তিপূর্ণ ভাবেই সাগরদিঘি কেন্দ্রের উপনির্বাচন হয়েছে। বিজেপি ও কংগ্রেস প্রার্থী গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করলে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা তার তীব্র প্রতিবাদ করেন। দু-একটি ঘটনা বাদ দিলে মোটের উপর উৎসবের মেজাজেই ভোট দেন সাগরদিঘির মানুষ। বুথে বুথে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭৩ শতাংশ। ভোট গ্রহণ চলে সন্ধে সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত। তবে, রাজ্য পুলিশকে বুথ থেকে সরিয়ে দেওযা থেকে শুরু করে তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস বন্দোপাধ্যায়কে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া- বেশ কিছু ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সবরকম প্ররোচনা এড়িয়ে মাথা ঠান্ডা রেখেই ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করেছেন।

সোমবার দিনের শুরুতেই কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাসের সঙ্গে কংগ্রেস নেতা সাইদুর রহমানের ভোটের টাকা লেনদেন সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ভাইরাল হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়ে ডেমেজ কন্ট্রোলে নামতে হয় অধীর চৌধুরীকে। একটা সময় বাইরন বিশ্বাসকে তাঁর গাড়ির সঙ্গে প্রচুর বহিরাগতদের নিয়ে বুথে বুথে ঘুরতে দেখা যায়। এর তীব্র প্রতিবাদ জানান তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা- কর্মীরা। আচমকাই সকালের দিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে বুথে ঢুকে রাজ্য পুলিশের কর্মীদের বের করে দেন। এতে সাময়িক ভাবে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ যায় কমিশনে। বিজেপি প্রার্থী ও কংগ্রেস প্রার্থীকে দেখা যায় হাসিমুখে কোলাকুলি করতে। ইঙ্গিত স্পষ্ট।

সাগরদিঘির মণিগ্রামে কুপনের বিনিময়ে বিজেপি ভোটারদের প্রভাবিত করতে মুড়ি- ঘুগনি খাওয়ানের ব্যবস্থা করে। দোকানদার ভজহরি মণ্ডল তা স্বীকার করায় পরিস্থিতি ঘোরালো হয়। অভিযোগ জমা পড়ে কমিশনে। এসব দেখে দিনের শেষে কুণাল ঘোষ নির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, তৃণমূল প্রতিটি বুথে অন্তত ৫১ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পাবে। তবে বিজেপি সিপিএম ও কংগ্রেসের অশুভ আঁতাঁত মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল।

আরও পড়ুন- বুথ ফেরত সমীক্ষায় নাগাল্যান্ডে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের ইঙ্গিত NDPP-BJP জোটের

Related articles

ভবানীপুরে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ RO, নিয়ম ভেঙে দায়িত্বে আধিকারিকরা: CEO-কে প্রশ্ন তৃণমূলের

নির্বাচনের আগে নির্বাচনী আচরণবিধির দোহাই দিয়ে যেভাবে রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশ পদে বদল করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election...

লক্ষ্ণণের চিঠিতে বড় দায়িত্বের খবর সৌরিশসকে, বঙ্গ ক্রিকেটে খুশির হাওয়া

বাংলা ক্রিকেটের জন্য সুখবর। বিসিসিআইয়ের কোচিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন সৌরাশিস লাহিড়ী (Sourashish lahiri)। ‘ইমার্জিং ইন্ডিয়া’র কোচ হিসাবে নির্বাচিত...

ভোটার কারচুপিতেই ক্ষমতায় চন্দ্রবাবু! মধ্যরাতে ১৭ লক্ষ ভোট, প্রশ্ন প্রভাকর-প্রশান্ত-কুরেশির

বাংলায় নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দলীয় কর্মী, এজেন্টদের সতর্ক করছেন, যাতে তাঁরা ভোট শেষ হওয়ার...

কুড়মি স্বীকৃতির দাবিতে নীরব বিজেপি! জয়পুরের সভা থেকে তোপ অভিষেকের, নিশানা বিরোধী প্রার্থীকেও

জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রের সভা থেকে কুড়মি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিকে সামনে রেখে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয়...