Saturday, April 4, 2026

ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর খেসারত! ড্রোনে ধাক্কার ঘটনায় দূরত্ব বাড়ছে আমেরিকা-রাশিয়ার

Date:

Share post:

আমেরিকান ড্রোনের (American Drone) সঙ্গে রাশিয়ার ফাইটার জেটের (Russia Fighter Jet) সংঘর্ষ। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার কৃষ্ণসাগরে (Black Sea) মার্কিন ড্রোনের উপরে জ্বালানি ফেলে দেয় রাশিয়ার ফাইটার জেট। এরপরই ড্রোনের সঙ্গে শুরু হয় সংঘর্ষ। কিছুক্ষণ পর কৃষ্ণসাগরের উপরই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় ড্রোনটি। মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর তরফে এই কথা জানানো হয়েছে। যদিও রাশিয়া মার্কিন ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষের কথা মানতে একেবারেই নারাজ। তবে মার্কিন ড্রোনটি সম্পূর্ণ যন্ত্রচালিত ছিল। যদিও ঘটনায় কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়বে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

মার্কিন সেনার দাবি, কৃষ্ণসাগরের উপর মাঝ আকাশে মার্কিন ড্রোনের উপর জ্বালানি ঢেলে দেয় রুশ যুদ্ধবিমান। তারপর সরাসরি ওই ড্রোনকে ধাক্কা মারা হয়। তবে ইউরোপের মার্কিন সেনা কম্যান্ডের তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমার উপর ওই MQ-9 ড্রোনটির অবস্থান ধরে ফেলে রাশিয়ার দুটি সুখোই-২৭ যুদ্ধবিমান। তারপর সেই ড্রোনটির উপর আঘাত হেনে রুশ যুদ্ধবিমান একেবারেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে মার্কিন সেনার দাবি, আঘাত হানার আগে দফায় দফায় MQ-9 ড্রোনটির উপর জ্বালানি ফেলা হয়। মার্কিন কম্যান্ডের তরফে দাবি করা হয়েছে, এমকিউ-৯ ড্রোনের সামনে দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ফাইটার জেট ওড়ানো হচ্ছিল। পরিবেশের জন্য ক্ষতিপূর্ণ ও অত্যন্ত অপেশাদার পদ্ধতিতে ফাইটার জেটগুলি ওড়ানো হচ্ছিল বলেই অভিযোগ। একাধিক সংবাদসংস্থা তরফেও কৃষ্ণসাগরে মার্কিন জেট ভেঙে পড়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে। যদিও মস্কোর তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ‘চৌকস’ MQ-9 রিপার নামের ওই ড্রোন ব্যবহার করে। যা একবার জ্বালানি নিলে ১৮০০ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত হামলা চলতে পারে। এর গতি ঘণ্টায় ৪৮২ কিলোমিটার। অন্যদিকে, ১৯৮৫ সালের শুরুতে সুখোই Su-27 সোভিয়েত ইউনিয়নের বিমান বাহিনীতে প্রথম নিয়ে আসা হয়েছিল এবং এটি ‘ফ্ল্যাঙ্কার’ নামেও পরিচিত। Su-27 অত্যন্ত দ্রুত গতিতে উড়তে সক্ষম এবং এর ফ্লাইট রেঞ্জ ১৮০০ মাইল। Su-27 এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল এবং অন্যান্য বিভিন্ন গোলাবারুদ দিয়ে সুসজ্জিত।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine War) শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করেছে আমেরিকা। সেই কারণেই আমেরিকার উপর বেজায় চটেছে রাশিয়া। এই ড্রোন হামলা সেই ঘটনারই প্রেক্ষিতে ঘটল কী না, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়েছে।

 

 

Related articles

আজ পশ্চিমের দুই জেলায় অভিষেক: রয়েছে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো

রাজ্যের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে নির্বাচনী জনসভায় তৃণমূল প্রার্থীদের শক্তির পরিচয় সাধারণ মানুষকে করিয়ে দিচ্ছেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক...

মায়ানমারে ক্ষমতায় জুংটা: রাষ্ট্রপতি পদে শপথ সেনাপ্রধান মিন লাইংয়ের

সংসদীয় নির্বাচনে জিতে ফের মায়ানমারের ক্ষমতায় সামরিক দল জুংটা। শুক্রবার দেশের রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নিলেন সামরিক প্রধান মিন...

রাহুলের মৃত্যু নিয়ে ম্যাজিক মোমেন্টসের উত্তরে সন্তুষ্ট নয় আর্টিস্টস ফোরাম,শনিতে FIR-র সিদ্ধান্ত

অভিনেতা রাহুলের মৃত্যুতে টলিউডের অন্যতম নামী প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের (magic moments) বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করতে চলেছে আর্টিস্টস...

প্রবল ভূমিকম্প আফগানিস্তানে, কম্পন টের পেল কাশ্মীর

রাতের অন্ধকারে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান। একে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে (Afghanistan) প্রায় প্রতিদিন মৃত্যু মিছিল লেগে...