Friday, April 3, 2026

“সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম ম.রেই যাব”! ভ.য়াবহ অভিজ্ঞতা করমণ্ডল এক্সপ্রেসের যাত্রীদের

Date:

Share post:

ঘড়িতে সন্ধে ৬:৫০ মিনিট। আচমকাই প্রবল চিৎকার, তারপরেই ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে গেল ট্রেন! দুর্ঘটনার ১ সেকেন্ড আগে ঠিক কী ঘটল, হাড়হিম করা সেই অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন করমণ্ডল এক্সপ্রেসের (Coromandel Express) যাত্রীরা। পেশায় পেন্টার এক ব্যক্তি যিনি কলকাতার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁরা চেন্নাই (Chennai) যাচ্ছিলেন নিজেদের কাজে। কিন্তু তা আর যাওয়া হল না। আপাতত বাড়ি ফেরার প্রহর গুণছেন আটকে থাকা যাত্রীরা।

এক যাত্রী সংবাদ জানিয়েছেন, শুক্রবার হাওড়া থেকে ছেড়ে যাওয়া করমণ্ডল এক্সপ্রেসের এস৫-কোচে ছিলেন তিনি। সন্ধ্যা ৬:৫০ মিনিট নাগাদ আচমকা বিকট শব্দ হয়। দাঁড়িয়ে যায় ট্রেন। তারপরেই শুরু হয় আর্তনাদ, চিৎকার, চেঁচামেচি, হাহাকার। যদিও তিনি যে কামরায় যাচ্ছিলেন সেই কামরায় তেমন তীব্র প্রভাব পড়েনি দুর্ঘটনার। তবে সকলেই কম-বেশি আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, কাঁপা কাঁপা গলায় বাড়িতে ফোন, বেঁচে আছি। চিন্তা করো না। কেউ আবার স্টেশনে বসে রীতিমতো কাঁপছেন। স্থানীয় বাসিন্দার হাত ধরে বলছেন, একটু বলে দেবেন বাড়িতে, বেঁচে আছি আমি। বেঁচে থাকার যে এত আনন্দ তা বোধ হয় আগে বোঝেননি তাঁরা।

জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত করমণ্ডল এক্সপ্রেসে ছিলেন গোবিন্দ মণ্ডল নামে এক যাত্রী। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমি সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো মরেই যাব। একটা ভাঙা জানলা দিয়ে কোনওরকমে বেরিয়ে এসেছি। প্রথমে একটি ডিসপেন্সরিতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে এখন বিপদ থেকে বড় বাঁচা বেঁচে গিয়েছি।

অপর এক যাত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগেও বুঝতে পারলাম না এত বড় কিছু হতে পারে। কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে এটাও বুঝতে পারলাম না। তাহলে তো প্রচন্ড ঝাঁকুনি হত। কিন্তু এটা বুঝতে পারলাম ট্রেনটি লাইন থেকে নেমে গিয়েছে। পাশাপাশি অপর এক যাত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগেও বুঝতে পারলাম না এত বড় কিছু হতে পারে। কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে এটাও বুঝতে পারলাম না। তাহলে তো প্রচন্ড ঝাঁকুনি হত। কিন্তু এটা বুঝতে পারলাম ট্রেনটি লাইন থেকে নেমে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, রেললাইনে সাদা কাপড়ে ঢাকা মৃতদেহের সারি। ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। ট্রেনের দুমড়েমুচড়ে যাওয়া কামরা থেকে একের পর এক দেহ বের করেন নিয়ে আসছেন রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ২৮৮, আহত প্রায় ১০০০ জন। তবে উদ্ধারকারীদের অনুমান মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহতের সংখ্যাও আরও বাড়বে। ওড়িশার রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলী বাহিনী, সেনাবাহিনী, রেল পুলিশ, একাধিক এনজিও-র পাশাপাশি উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

 

Related articles

হারের ভয়ে নন্দীগ্রামে অত্যাচার শুভেন্দুর অনুগামীদের: ভিডিও দেখিয়ে গ্রেফতারির দাবি তৃণমূলের

বিরোধী দলনেতার নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর বিজেপির কাছে কার্যত প্রেস্টিজ ফাইট। এবার সেই নন্দীগ্রামে জিততে পারবেন না শুভেন্দু অধিকারী,...

ভুয়ো খবর-প্রোপাগান্ডা বন্ধে মিডিয়া মনিটরিং সেন্টার চালু করছে কমিশন

নির্বাচনের আগে ভুয়ো খবর, প্রোপাগান্ডা বা বিধিভঙ্গ রুখতে নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ভোটমুখী...

ISL: কঠিন সময়েও চাপ নিচ্ছেন না লোবেরা, বাগানকে কড়া বার্তা ফেডারেশনের

ফিফা বিরতির আইএসএলে (ISL) খেলতে নামছে মোহনবাগান(Mohunbagan) । শনিবার জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে নামার আগে শুক্রবার চূড়ান্ত অনুশীলন করল...

নিরাপত্তার অজুহাত! বন্ধ স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন মিলেনিয়াম পার্ক-শিপিং জেটি

আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব নিয়ে হিমশিম অবস্থা নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)। নিজেদের কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডের (Strand Road) অফিসের নিরাপত্তার ব্যবস্থা...