Tuesday, February 3, 2026

রবিবারই কেন? সাপ্তাহিক ছুটির ১৩৩ বর্ষপূর্তিতে বিশেষ প্রতিবেদন

Date:

Share post:

সালটা ১৮৯০। ক্যালেন্ডারে হিসেবে আজকের দিনটি ছিল রবিবার। সময়টা ছিল ব্রিটিশ রাজ। আর এই দিনে ভারতে সাফল্যের মুখ দেখেছিল এক শ্রমিক আন্দোলন। মঞ্জুর হয়েছিল ৬ দিন কাজের পর একদিন সাপ্তাহিক ছুটি। সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে রবিবার দিনটিকেই ভারতে গণ্য করা হয়। জেনে নেওয়া যাক এই বিশেষ দিনের ইতিহাস।

ভারতে ব্রিটিশ শাসন চলাকালীন কারখানা গুলিতে সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করতে হতো ভারতীয় শ্রমিকদের। আলাদা করে থাকতো না কোনও ছুটির দিন। শুধুমাত্র ব্রিটিশ আধিকারিকায় রবিবার ছুটি নিতেন কারণ ওইদিন তারা গির্জায় প্রার্থনা করতে যেতেন। তবে শ্রমিকদের জন্য এই ধরনের কোনও নিয়ম ছিল না। লাগাতার কোনও ছুটি ছাড়া এভাবে কাজ করার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় শ্রমিকরা।

সে সময় শ্রমিকদের নেতা ছিলেন শ্রীনারায়ণ মেঘাজি লোখান্ডে। মহারাষ্ট্রের ঠাণের বাসিন্দা। ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের পথিকৃত বলা হয় তাঁকে। এই লোখান্ডে ব্রিটিশ আধিকারিকদের কাছে আবেদন জানান সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করার পর একদিন ছুটি মঞ্জুর করা হোক। রবিবার হিন্দু দেবতা ‘খান্ডোবা’র দিন। তাই শ্রমিকদের ওই দিন সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়া হোক। তবে সপ্তাহে একদিন মানে মাসে চার দিন ছুটি। সবেতন এই চার দিন ছুটিতে তীব্র আপত্তি ছিল ব্রিটিশ আধিকারিকদের। পাশাপাশি শ্রমিকদের ছুটি মানে কাজের ক্ষতি। তবে ব্রিটিশ আধিকারিকা না মানলেও নাছোড় ছিলেন ভারতীয় শ্রমিকরা। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলার পর অর্ধেক টাকার বিনিময়ে এই ছুটি মেনে নেয় ব্রিটিশরা। অবশেষে ১৮৯০ সালের ১০ জুন রবিবারকে শ্রমিকদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করে ব্রিটিশ সরকার। সেই দিন থেকে রবিবারই ছুটির দিন ঘোষণা হয়ে যায় ভারতে।

লোখান্ডের কারণেই শ্রমিকরা রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি পান। কাজের মাঝে আধ ঘণ্টা খাওয়ার সময় এবং প্রতি মাসের ১৫ তারিখে বেতন। মজার বিষয় যেটা তা হল, ব্রিটিশরা দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে। ভারতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশদের থেকে আদায় করে নেওয়া সাপ্তাহিক ছুটিটি অপরিবর্তিতই থেকে গিয়েছে। ভারত সরকারও সেই নিয়ম আর বদলায়নি। ফলে সেই থেকেই রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবেই চলে আসছে।

তবে সব দেশে কিন্তু রবিবার দিনটিকেই ছুটি হিসেবে গণ্য করা হয় না। মূলত ইউরোপীয় দেশগুলিতে রবিবার ছুটির দিন। আর এর পেছনে রয়েছে খ্রিস্টধর্মের প্রভাব। বাইবেল মতে ৬ দিন ধরে পৃথিবী সৃষ্টি করে ঈশ্বর ষষ্ঠ দিনে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। তাই রবিবারকে বিশ্রামের দিন বলে খ্রিস্টধর্মে গণ্য করা হয়। যার ফলে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী ইওরোপের দেশগুলিতে প্রথম চালু হয় রবিবারের ছুটি। মুসলিম দেশ গুলিতে মুসলিমদের পবিত্র দিন শুক্রবার ছুটি থাকে। আবার ইহুদিদের বিশেষ দিন শনিবার তাই ইজরায়েলে শনিবার ছুটি থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বুধবার ছুটি রাখার নিয়ম করেছিলেন, যেটি বর্তমানে মেনে চলা হয়।

spot_img

Related articles

আরও বড় ব্যবধানে জিতব: দিল্লি থেকে বাংলা জয়ের বার্তা তৃণমূল সভানেত্রীর

বিধানসভা ভোটে বাংলার শাসকদলের রণকৌশল কী? মঙ্গলবার, দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রশ্নের জবাবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল (TMC)...

কলকাতার ধোঁয়া না কি গ্রামের ধুলো, বেশি ঘাতক কে? কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সন্ধানে রাজ্য

শহরের শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়া আর গ্রামের বাতাসের ধুলো— দুইয়ের বিষক্রিয়া কি সমান? নাকি জনস্বাস্থ্যের ওপর এদের প্রভাব ভিন্ন? দূষণের...

দেশবাসীর গোপনীয়তায় আপস করলে ভারত ছাড়ুন! মেটা-কে কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির

ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিসরে নাক গলালে ব্যবসা বন্ধ করে বিদায় নিতে হবে মেটার (Meta)হোয়াটসঅ্যাপকে (Whatsapp) । হোয়াটসঅ্যাপের বিতর্কিত...

বেনজির: SIR-শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে থাকবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী? মিলেছে নিরাপত্তার ছাড়পত্র

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। রবিবারই জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও CEO...