Wednesday, June 24, 2026

রবিবারই কেন? সাপ্তাহিক ছুটির ১৩৩ বর্ষপূর্তিতে বিশেষ প্রতিবেদন

Date:

Share post:

সালটা ১৮৯০। ক্যালেন্ডারে হিসেবে আজকের দিনটি ছিল রবিবার। সময়টা ছিল ব্রিটিশ রাজ। আর এই দিনে ভারতে সাফল্যের মুখ দেখেছিল এক শ্রমিক আন্দোলন। মঞ্জুর হয়েছিল ৬ দিন কাজের পর একদিন সাপ্তাহিক ছুটি। সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে রবিবার দিনটিকেই ভারতে গণ্য করা হয়। জেনে নেওয়া যাক এই বিশেষ দিনের ইতিহাস।

ভারতে ব্রিটিশ শাসন চলাকালীন কারখানা গুলিতে সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করতে হতো ভারতীয় শ্রমিকদের। আলাদা করে থাকতো না কোনও ছুটির দিন। শুধুমাত্র ব্রিটিশ আধিকারিকায় রবিবার ছুটি নিতেন কারণ ওইদিন তারা গির্জায় প্রার্থনা করতে যেতেন। তবে শ্রমিকদের জন্য এই ধরনের কোনও নিয়ম ছিল না। লাগাতার কোনও ছুটি ছাড়া এভাবে কাজ করার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় শ্রমিকরা।

সে সময় শ্রমিকদের নেতা ছিলেন শ্রীনারায়ণ মেঘাজি লোখান্ডে। মহারাষ্ট্রের ঠাণের বাসিন্দা। ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের পথিকৃত বলা হয় তাঁকে। এই লোখান্ডে ব্রিটিশ আধিকারিকদের কাছে আবেদন জানান সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করার পর একদিন ছুটি মঞ্জুর করা হোক। রবিবার হিন্দু দেবতা ‘খান্ডোবা’র দিন। তাই শ্রমিকদের ওই দিন সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়া হোক। তবে সপ্তাহে একদিন মানে মাসে চার দিন ছুটি। সবেতন এই চার দিন ছুটিতে তীব্র আপত্তি ছিল ব্রিটিশ আধিকারিকদের। পাশাপাশি শ্রমিকদের ছুটি মানে কাজের ক্ষতি। তবে ব্রিটিশ আধিকারিকা না মানলেও নাছোড় ছিলেন ভারতীয় শ্রমিকরা। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলার পর অর্ধেক টাকার বিনিময়ে এই ছুটি মেনে নেয় ব্রিটিশরা। অবশেষে ১৮৯০ সালের ১০ জুন রবিবারকে শ্রমিকদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করে ব্রিটিশ সরকার। সেই দিন থেকে রবিবারই ছুটির দিন ঘোষণা হয়ে যায় ভারতে।

লোখান্ডের কারণেই শ্রমিকরা রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি পান। কাজের মাঝে আধ ঘণ্টা খাওয়ার সময় এবং প্রতি মাসের ১৫ তারিখে বেতন। মজার বিষয় যেটা তা হল, ব্রিটিশরা দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে। ভারতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশদের থেকে আদায় করে নেওয়া সাপ্তাহিক ছুটিটি অপরিবর্তিতই থেকে গিয়েছে। ভারত সরকারও সেই নিয়ম আর বদলায়নি। ফলে সেই থেকেই রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবেই চলে আসছে।

তবে সব দেশে কিন্তু রবিবার দিনটিকেই ছুটি হিসেবে গণ্য করা হয় না। মূলত ইউরোপীয় দেশগুলিতে রবিবার ছুটির দিন। আর এর পেছনে রয়েছে খ্রিস্টধর্মের প্রভাব। বাইবেল মতে ৬ দিন ধরে পৃথিবী সৃষ্টি করে ঈশ্বর ষষ্ঠ দিনে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। তাই রবিবারকে বিশ্রামের দিন বলে খ্রিস্টধর্মে গণ্য করা হয়। যার ফলে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী ইওরোপের দেশগুলিতে প্রথম চালু হয় রবিবারের ছুটি। মুসলিম দেশ গুলিতে মুসলিমদের পবিত্র দিন শুক্রবার ছুটি থাকে। আবার ইহুদিদের বিশেষ দিন শনিবার তাই ইজরায়েলে শনিবার ছুটি থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বুধবার ছুটি রাখার নিয়ম করেছিলেন, যেটি বর্তমানে মেনে চলা হয়।

Related articles

শোকজের পরে ফিরহাদ-অরূপদের দল থেকে বহিষ্কার করলেন মমতা? জল্পনা তুঙ্গে

দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও অরূপ রায়দের সোমবারে শোকজ করেছিল...

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস! তারকা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

  বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ উঠল বাংলা দলের ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েলের(Abhisek porel) বিরুদ্ধে। এক ডাক্তারি পড়ুয়ার তরুণী মগরা...

বেআইনি সম্পত্তি অধিগ্রহণে নতুন বিলের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর! দুর্নীতি দমন নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? উঠছে প্রশ্ন

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে নতুন আইন আনার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর...

উস্কানিমূলক মন্তব্য মামলা: অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করবে সিআইডি! আবেদন মঞ্জুর আদালতের

উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করার অনুমতি পেল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা...