Monday, January 12, 2026

কলকাতা উইমেন্স কলেজ ও অটি.জম সোসাইটির উদ্যোগে অটি.জম ডিস.অর্ডার নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান!

Date:

Share post:

শারীরিক বা মানসিক কোনও সমস্যা কখনও মানুষকে পিছিয়ে দিতে পারে না। ইচ্ছেশক্তির জোরে আর বিজ্ঞানের প্রতিমুহূর্তের উন্নতির সুবিধা নিয়ে আজ আর কোনও বাধাই জীবনের গতিপথকে রুদ্ধ করতে সক্ষম হয় না। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (Autism Spectrum Disorder) তেমনই এক সমস্যা যা এক শিশুকে অন্য চার পাঁচ জনের থেকে আলাদা করে দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে নিউরোডেভেলপমেন্টাল অস্বাভাবিকতা (Neurodevelopmental abnormalities) বলা হয়। অটিজমে (autism) আক্রান্ত শিশুরা অন্য শিশুদের মতো সহজে সকলের সঙ্গে মিশে যেতে বা সবার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ স্থাপনে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন না। তবে এই বিষয় সম্পর্কে অনেকের মনে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। মানুষের কাছে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) সম্পর্কিত সঠিক তথ্য তুলে ধরতে কলকাতা উইমেন্স কলেজ (Women’s College Calcutta) ও পশ্চিমবঙ্গ অটি.জম সোসাইটির (Autism Society West Bengal) উদ্যোগে কলেজ অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একদিনের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম বুধবার অর্থাৎ ১৪ জুন দুপুর দুটোয় অনুষ্ঠিত হয়। অটিজম সোসাইটি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অটিজম সম্পর্কে প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মেয়েদের সচেতন করাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল। কলেজের অধ্যক্ষা ডঃ অনুপমা চৌধুরীর (Anupama Chaudhary) নেতৃত্বে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন ডঃ রূপালী সেন, NILH বনহুগলী, ডঃ ইন্দ্রাণী বসু, ডঃ মিতু দে এবং অটিজম সোসাইটির তরফ থেকে পিয়ালী চক্রবর্তী (Piyali Chakraborty)। অনুষ্ঠানটির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ছিলেন কলেজের প্রশাসনিক বিভাগের হিমাংশু চক্রবর্তী। শিক্ষার্থীদের কাছে এই অনুষ্ঠান এতটাই পছন্দের হয়ে ওঠে যে এমন আয়োজন বারবার করার জন্য অনুরোধ আসতে থাকে অধ্যক্ষার কাছে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুরাও যে সাধারণ মানুষের মতোই জীবন যাপন করতে পারে, মূলত এই ভাবনাকেই উপস্থিত প্রত্যেকের মধ্যে সঞ্চারিত করার চেষ্টা হয়।

মনে রাখতে হবে যখন একটি শিশু সঠিকভাবে কথা বলতে পারে না বা কোনও প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সময় উত্তর দিতে অক্ষম হয়। অথবা একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি করার প্রবণতা দেখায়, তখন চিকিৎসক অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের সন্দেহ করতে পারেন। সাধারণত, অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা অন্যদের সঙ্গে চোখের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে অক্ষম এবং নতুন মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে এদের সমস্যা হয়। কলকাতা উইমেন্স কলেজের পক্ষ থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে আগামী প্রজন্মকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আর চার পাঁচ জনের মতোই অটিজিমে আক্রান্ত শিশুদের দিকে দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়ার কথা বলা হয়।

 

spot_img

Related articles

এক গ্রাম থেকেই ১১০০ মানুষকে SIR নোটিশ! পথ অবরোধ করে সুরাহা দাবি

এসআইআর হয়রানি যে বাংলার বৈধ ভোটারদের হয়রান করার জন্য, তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠে এল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার...

৫ বছর পর পরিচালনায় ফিরছেন অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়

ব্যক্তিগত সমস্যা, কোভিড, শারীরিক অসুস্থতা সবমিলিয়ে জেরবার ছিলেন পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায় (Agnidev Chattopadhyay)। পরিচালনার পাঠ একপ্রকার চুকিয়েই দিয়েছিলেন...

ফের শিক্ষক নিয়োগে সুখবর: ২১ জানুয়ারির মধ্যেই একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত প্যানেল প্রকাশ

ফের শিক্ষক নিয়োগে সুখবর। নির্বাচনের আগেই ২১ জানুয়ারির মধ্যেই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত প্যানেল প্রকাশ করবে স্কুল...

সোলানে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিক মৃত্যু নাবালকের, ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে বহু

হিমাচল প্রদেশের সোলানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (Massive fire incident)! সোমবার ভোরে আর্কি এলাকার এক পুরোনো বাস স্ট্যান্ডে আগুন লেগে...