Wednesday, June 24, 2026

থামছে না অ.শান্তি! মণিপুরে শান্তি ফেরাতে সর্বদল বৈঠকের ডাক শাহের, ক.টাক্ষ কংগ্রেসের

Date:

Share post:

মণিপুরে (Manipur) শুরু হওয়া হিংসার রেশ এখনও কাটেনি। এখনও ধারাবাহিকভাবে অশান্ত হয়ে উঠছে উত্তর পূর্বের এই রাজ্য। সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। আর এমন আবহে মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদল বৈঠকের ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ইতিমধ্যেই মণিপুরে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে একাধিক মহিলা ও শিশুরাও রয়েছেন। এই আবহে অবশেষে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকলেন অমিত শাহ। জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ জুন সর্বদলীয় বৈঠকে বসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেদিন সাউথ ব্লকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অফিসেই ৩টে নাগাদ বৈঠকটি হবে।

মণিপুরে কীভাবে শান্তি ফেরানো যায়, মূলত তা নিয়েই আলোচনা করা হবে। যদিও বৈঠক নিয়ে কংগ্রেসের (Congress) দাবি, ‘বড্ড দেরি হয়ে গেল।’ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল দাবি করেন, সোনিয়া গান্ধী মণিপুর নিয়ে সরব হওয়ার পরই ঘুম ভেঙেছে কেন্দ্রীয় সরকারের। এর আগে বিরোধীরা কেন্দ্রকে মণিপুর নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। এদিকে মণিপুরেরও ৯ জন বিধায়ক মোদিকে চিঠি লিখে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা ব্যক্ত করেছিলেন। এই আবহে অবশেষে বৈঠক ডাকলেন শাহ। এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে টুইটে জানানো হয়, ২৪ জুন অর্থাৎ শনিবার দুপুর ৩টে নাগাদ নয়াদিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠক হবে। এদিকে মণিপুরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছে কেন্দ্র। এই বিষয়ে তদন্তে নেমেছে সিবিআই (CBI)।

গত ৩ মে থেকে জাতিগত হিংসার সাক্ষী মণিপুর। মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি অবস্থা। এখনও পর্যন্ত কয়েক হাজার জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চূড়াচাঁদপুর, মোরে, কাকচিং এবং কাংপোকপি জেলা থেকে অধিকাংশ মানুষকে সরানো হয়েছে। এরই মধ্যে হিংসায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। অভিযোগ উঠেছে কুকি ‘জঙ্গিরা’ অটোমেটিক রাইফেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরই মধ্যে কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে সেই রাজ্যে।

ইম্ফল উপত্যকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হল মৈতৈ জনজাতি। তবে তারা সম্প্রতি দাবি তুলেছে যে তাদের তফসিলি উপজাতির তকমা দিতে হবে। তাদের এই দাবির বিরোধ জানিয়েছে স্থানীয় আদিবাসীরা। এই আবহে গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে মণিপুরের অল ট্রাইবাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (All Tribal Students Union) একটি মিছিলের আয়োজন করেছিল। সেই মিছিল ঘিরেই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে চূড়াচাঁদপুর জেলায়। এদিকে তফশিলি উপজাতির ইস্যুর পাশাপাশি সংরক্ষিত জমি এবং সার্ভে নিয়েও উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই আবহে গত এপ্রিল মাসে এই চূড়াচাঁদপুর জেলাতেই মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংয়ের সভাস্থলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল ইন্ডিজেনাস ট্রাইবাল লিডারস ফোরামের সদস্যরা। এদিকে এই জেলা থেকে আদিবাসী বনাম মৈতৈদের এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য জেলাতেও।

 

 

Related articles

সোনা পাপ্পুর পরিবারের সদস্যদের ইডি তলব

জমি দখল,তোলাবাজি মামলায় এবার সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) পরিবারের সদস্যদের তলব করল কেন্দ্রীয় সংস্থা। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন...

এবার বিধানসভার BA কমিটিতে নেই মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়কদের নাম!

বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটিতেও (Business Advisory Committee) ঋতব্রতপন্থী বিধায়করা। নাম নেই মমতাপন্থী বিধায়কদের নাম। এমনকী নাম রয়েছে বাম (Left)-কংগ্রেস...

তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউনের ছাদ ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ঘটনাস্থলে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল – অগ্নিমিত্রা

বুধবার দুপুরে তারাতলার নির্মীয়মান গোডাউনের ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা। গুদাম তৈরির কাজ করছিলেন অন্তত ৫০-৬০ জন শ্রমিক।...

মিড ডে মিলের দায়িত্ব কেন বেসরকারি ধর্মীয় সংস্থাকে? শিক্ষাতেও কি গৈরিকীকরণ?

স্কুলছুট কমাতে ও পড়ুয়াদের পাতে পুষ্টি জোগাতে মিড ডে মিল (Mid-day Meal) চালু করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)...