Thursday, April 30, 2026

শরদ পাওয়ারই সরকারে যোগ দিতে বলেছিলেন: বিস্ফোরক দাবি ভাইপো অজিতের

Date:

Share post:

এনসিপি ভেঙে বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে মহারাষ্ট্রের বিজেপি ও শিবসেনা(বিক্ষুব্ধ) সরকারে যোগ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ‘বিভীষণ’ তকমা পেয়েছেন অজিত পাওয়ার। তবে এই পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত তাঁর নয় বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন অজিত। এনসিপির এক সম্মেলনে যোগ দিয়ে কাকা শরদ পাওয়ার প্রসঙ্গে অজিত জানালেন, শাসকদলে যোগ দেওয়ার সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন শরদ পাওয়ারই। অজিতের এহেন দাবিতে মহারাষ্ট্র তো বটেই জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২ মে, এনসিপির সভাপতির পদ থেকে হঠাৎ ইস্তফা দিয়েছিলেন শরদ পাওয়ার। এরপর অজিত দলের সভাপতি হন। যদিও পরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন শরদ। এরপর এনসিপি ভেঙে অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রের শিন্ডে সরকারে যোগ দেন। এবং উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তবে এই পদক্ষেপের পিছনে কাকা অজিত পাওয়ারে হাত রয়েছে বলে এনসিপি সম্মেলনে দাবি করলেন অজিত। এনসিপি সম্মেলনে অজিত বলেন, “সেদিন আমরা ১০-১২ জন বিধায়ক মিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছিলাম। এরপর সুপ্রিয়াকে ডাকি। আমাদের মনে হয়েছিল সরাসরি শরদ পাওয়ারকে বিষয়টি বললে তিনি কী ভাববেন। সুপ্রিয়া ৮-১০ দিন সময় চান, এবং বলেন তিনি শরদকে বুঝিয়ে বলবেন। তবে বেশকিছুদিন কেটে যাওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিই সরাসরি শরদ পাওয়ারের সঙ্গে কথা বলার। ওনাকে বিষয়টি জানানোর পর উনি বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য কিছু সময় চান।” এরপর অজিত পাওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, “এরপর ১ মে দলের এক অনুষ্ঠানে শরদ পাওয়ার আমাকে ডেকে বলেন সরকারে যোগ দিতে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি(শরদ পাওয়ার) দলের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।”

একইসঙ্গে অজিত বলেন, “শরদ পাওয়ার যে ইস্তফা দেবেন একথা কেউ জানত না। বিষয়টি শুধুমাত্র ৪ জন জানত। এরপর উনি ইস্তফা দিয়ে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেন, এবং নতুন সভাপতি বেছে নিতে বলেন। ২ মে উনি যখন ইস্তফা দেন, তখন তা গোটা এনসিপি নেতৃত্বের কাছেই আকস্মিক ছিল।” তবে শরদ পাওয়ারের পদত্যাগকে আর একটি নাটক বলে দাবি করে অজিত জানান, এক অনুষ্ঠানে নিজের ইস্তফার কথা ঘোষণা করে শারদ পাওয়ার বাড়ি চলে যান। পদত্যাগের পর দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা আনন্দ পরাঞ্জপে ও জিতেন্দ্র আওহাদকে ডাকেন শরদ পাওয়ার। এবং নিজের এই পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য দলের কর্মী সমর্থকদের যশবন্তরাও সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়। আমি জানি না কেন? পদত্যাগ করতে না চাইলে উনি পদত্যাগ করতেন না। এই নাটক করার অর্থ কী?”

তবে অজিত পাওয়ারের এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই মারাঠা রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও অজিত সত্যি বলছেন? নাকি দলীয় সুপ্রিমোর সম্মানহানি করতে মিথ্যা গল্প ফাঁদছেন তা নিয়ে যথেষ্ট মতান্তর রয়েছে।

Related articles

উন্নয়নমুখী রাজনীতিকে সমর্থন! ৯১ শতাংশ পেরিয়ে বাংলায় নজিরবিহীন ভোটদান

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ছাপিয়ে গিয়েছে ২০১১ সালের ঐতিহাসিক ৮৪.৩৩ শতাংশ ভোটদানের রেকর্ডও। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ...

‘‘সরল পাটিগণিত, বিজেপি হারছে’’! কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ তৃণমূলের 

বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ। বুধবার সন্ধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে শশী পাঁজা এবং কুণাল...

লুঙ্গি পরায় ভোটদানে বাধা কেন্দ্রীয় বাহিনীর! পোশাক দিয়ে ভোটারের বিচারে ক্ষুব্ধ মমতা

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় (Second phase of West Bengal Assembly Election) নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গাইঘাটা...

ইভিএমে টেপ লাগালো দুষ্কৃতী: তাড়াহুড়ো করে পুণর্নির্বাচন নয়, জানালন সিইও মনোজ

পুণর্নির্বাচন একটি বিরাট ব্যাপার। ফলে কোনও বুথ বা কেন্দ্রে পুণর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে গেলে অনেক তদন্ত করতে হবে, স্পষ্ট...