Saturday, January 31, 2026

কবে মিলবে টাকা? সংসদের অধিবেশনে বাংলার বকেয়া নিয়ে সরাসরি মোদিকে প্রশ্ন সুদীপের

Date:

Share post:

১০০ দিনের কাজ-সহ বাংলার প্রাপ্য বকেয়া টাকা নিয়ে সোচ্চার তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নেতৃত্ব। বুধবার বাজেট অধিবেশনের (Budget Session) প্রথম দিনই সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) বাংলার বকেয়া (Pending Fund) নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee)। তিনি মোদিকে প্রশ্ন করেন, বাংলার বকেয়া টাকা কবে দেবে কেন্দ্র? বুধবার বাজেট অধিবেশন শুরু হলেও বৃহস্পতিবার পেশ হবে কেন্দ্রীয় বাজেট। 

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানান, বুধবারই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সুদীপ আরও জানান, এদিন সংসদে রাষ্ট্রপতির সম্ভাষণের সময় তাঁর আসন প্রধানমন্ত্রীর কাছেই পড়েছিল। সেই সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রশ্ন করেন, “একাধিক প্রকল্পে রাজ্যের টাকা বকেয়া রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এসে আপনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারপরও মেলেনি বকেয়া অর্থ। এরপরই  সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে তিনি প্রশ্ন করেন কবে এই বরাদ্দ টাকা দেবে কেন্দ্র? পাশাপাশি এদিন কেন্দ্রকে দুষে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাধ্য করা হচ্ছে ধর্না-সত্যাগ্রহে বসতে। লোকসভাতে এই নিয়ে আমাদের অবস্থান কী হবে, তা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তবে বাংলার বকেয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করলে উত্তরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্যাগ রিপোর্ট পড়ে দেখতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ক্যাগ রিপোর্ট সামনে এনে সাংবাদিক বৈঠকও করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা বলেন, শুধুমাত্র  ক্যাগ রিপোর্টের ওপর ভরসা করে একটি রাজ্যের বিরুদ্ধে কোনোরকম অভিযোগ তোলা যায় না। এই রিপোর্ট প্রথমে পাঠাতে হবে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিতে। তাদের পর্যবেক্ষণের পরই চূড়ান্ত হবে রিপোর্ট। এইভাবে তা প্রকাশ করা যায় না।

এদিকে বৃহস্পতিবারের বাজেট নিয়ে কেন্দ্রের কাছে কী প্রত্যাশা রয়েছে, সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “এই সরকারের একমাত্র দিশা বাংলাকে বঞ্চনা। এই সরকারের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে আমাদের কোনওরকম প্রত্যাশা নেই। তৃণমূল সাংসদের আরও অভিযোগ, কেন্দ্রের বকেয়া বরাদ্দ নিয়ে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিং এক কথা বলছেন, তারপর বেরিয়ে যাচ্ছেন। পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জনও তাঁর দফতরের পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, তারপর তাঁরা জানাচ্ছেন, আমাদের অপেক্ষায় নাকি বসেছিলেন। যা করতে হবে, রাস্তায় নেমে লড়াই করেই ছিনিয়ে নিতে হবে।” কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে সত্যাগ্রহ অনশনে বসছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

spot_img

Related articles

সতর্ক ও সর্বাত্মক লড়াই: ভবানীপুরের বিএলএ-দের বৈঠকে ডেকে বার্তা তৃণমূল নেত্রীর

একদিকে প্রতিপক্ষ বিজেপি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রতিদিনের নতুন নতুন ছক। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যতবার কমিশনের চক্রান্ত ফাঁস হয়েছে, সবই...

কমিউনিস্ট সেলিমের কমিউনাল পলিটিক্স! জোট প্রক্রিয়া ব্যহত করায় দায়ী, সরব কংগ্রেস

কলকাতার হোটেলে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একদিনে কত বিতর্ক টেনে এনেছেন শূন্যে...

দুদিনের সফরে শহরে শাহ: ‘জিতবই’ বার্তা দলীয় কর্মীদের

বাংলায় নির্বাচন শুরুর ঘণ্টা বাজার আগেই রাজনৈতিক ডেইলি প্যাসেঞ্জারিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। প্রতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী, সভাপতি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর...

কমিশনের জন্য পেশায় টান: হাই কোর্টের দ্বারস্থ LIC কর্মীরা, ব্যাখ্যা তলব আদালতের

রাজ্যের কর্মীদের পরে এবার কেন্দ্র সরকারের কর্মীরাও এসআইআর-এর অপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। পর্যবেক্ষক পদে নিযুক্ত এলআইসি (LIC)...