Friday, June 26, 2026

চাকরি বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে ‘যোগ্য’ চাকরি প্রার্থীরা, ধর্না শহিদ মিনারে

Date:

Share post:

হাই কের্টের রায়ে চাকরি বাতিল হয়েছে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের। সেই দলে আছেন বহু যোগ্যরাও। এ বার হাই কোর্টের নির্দেশে হঠাৎই চাকরি খোয়ানো ব্যক্তিরাও ধর্নায় বসতে চলেছেন। মঙ্গলবার সকালেই চাকরি হারানোদের একাংশ শহিদ মিনার চত্বরে জমায়েত হন। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ধর্নায় বসে নিজেদের প্রতিবাদ আন্দোলন চালাবেন তারা। এরই পাশাপাশি, আদালতের দ্বারস্থও হওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা। কলকাতা হাই কোর্টের সোমবারের চাকরি বাতিলের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন তাঁরা। সোমবারই উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য সরকারও। চাকরি হারানোদের বক্তব্য, তারা সবাই অবৈধ উপায়ে চাকরি পাননি। তা হলে কেন অবৈধ উপায়ে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য তাদেরও শাস্তি পেতে হবে?

সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৬ সালের এসএসসির সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দিয়েছেন। ২৮২ পাতার এই রায়ের ফলে শিক্ষক পদের পাশাপাশি গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি মিলিয়ে বাতিল হয়েছে মোট ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি। দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার আরও জানায়, এসএসসি প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাদের ১২ শতাংশ সুদ-সহ চার সপ্তাহের মধ্যে বেতন ফেরত দিতে হবে। এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনেক ওএমআর শিট বা উত্তরপত্র স্কুল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে আপলোড করা হয়েছে। যেগুলি এখনও আপলোড করা হয়নি, সেগুলি দ্রুত আপলোড করার নির্দেশও দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
এসএসসি অবশ্য হাই কোর্টের রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। এসএসসির চেয়ারম্যান বলেন, পাঁচ হাজার জনের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তার জন্য ২৬ হাজার জনের কেন চাকরি বাতিল হবে? সোমবার উত্তর দিনাজপুরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, যাঁদের চাকরি বাতিল করা হল, চিন্তা করবেন না, হতাশ হবেন না। কেউ জীবনের ঝুঁকি নেবেন না। আমরা পাশে আছি। যত দূর দরকার, লড়াই করব।
আগেই এসএসসি মামলায় প্রায় আট হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে সেই মামলা যায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। মামলা হাইকোর্টে ফেরত পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বর রশিদির বেঞ্চকে ছয় মাসের মধ্যে রায় ঘোষণার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। মাত্র তিন মাসেই শুনানি শেষ করে এবার রায় ঘোষণা করা হল বেঞ্চের তরফে।




Related articles

তারাতলার গোডাউন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, উদ্ধারকাজে হাত লাগালো ভারতীয় রেল

তারাতলার নির্মীয়মান গোডাউনের (Taratala Godown Collapse) ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রায় ৪৪ ঘণ্টার বেশি সময় অতিক্রান্ত, এখনও চলছে...

দাম বাড়তে চলেছে পাউরুটির! বড় সিদ্ধান্তের পথে একাধিক বেকারি সংস্থা

জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। এবার প্রভাব পড়তে পারে প্রাতরাশের মেনুতেও। কারণ মধ্যবিত্তের প্রিয়...

ড্রোন -নাইট ভিশন ক্যামেরায় তারাতলা গোডাউনে উদ্ধারকাজ সেনার

ভারী বৃষ্টির দুর্যোগে জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দফায় দফায় থমকে যায় তারাতলার গোডাউনের উদ্ধারকাজ (Taratala Rescue Operation)। রাতেও...

নবান্নে কাকলি-শতাব্দী-সুদীপ: শুভেন্দু-সাক্ষাতে কী কথা!

তৃণমূলে বিক্ষোভ দেখিয়ে কমপক্ষে ১৯জন সাংসদ নিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakoli Ghoshdastidar। জানিয়েছেন তাঁরা...