Wednesday, January 14, 2026

মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা হয় না, সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল এসএসসি-র

Date:

Share post:

রাজ্যের ২৫ হাজার শিক্ষক শিক্ষাকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সোমবারের পরে মঙ্গলবার ফের সর্বোচ্চ আদালতে সওয়াল এসএসসি ও রাজ্য সরকারের। হাইকোর্টের রায়ে যে ১৭ থেকে ১৮ হাজার শিক্ষক শিক্ষাকর্মী বাতিল হয়েছেন তাতে রাজ্যের ছয় ভাগের এক ভাগের সমান। তালিকায় অনৈতিকভাবে যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের জন্য কখনই সওয়াল করবে না কমিশন, সর্বোচ্চ আদালতে জানান আইনজীবী। যোগ্য ও অযোগ্য চাকুরিজীবীদের আলাদা করা সম্ভব, দাবি করে মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে জানায় কমিশন। যদিও কমিশনের এই বিভাজনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। কীভাবে গোপণীয় একটি সংরক্ষণের কাজে বহিরাগত সংস্থাকে নিয়োগ করে হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল প্রশ্ন তোলেন যে মামলায় রাজ্যের একাধিক দফতর জড়িত সেই মামলায় স্থগিতাদেশ দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত। এই কারণেই প্রত্যেককে সিবিআই তদন্তের অধীনে নিয়ে আসার সওয়াল করেন তিনি। রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত সওয়াল করেন এই মামলায় চাকরিপ্রাপকদের চারটি শ্রেণি রয়েছে – নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক, গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি অশিক্ষক কর্মীরা। চাকরিজীবীদের পক্ষে সওয়াল শুরু হতেই প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি।

তিনি প্রশ্ন করেন, নাইসা নামে যে সংস্থাকে ওএমআর শিট স্ক্যান করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের সম্পর্কে কমিশনের চেয়ারম্যানও কেন জানতেন না। কমিশনের কাছে প্রতিলিপিও রাখা হয়নি কেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। এরপরই টেন্ডারের ভিত্তিতে কোনও সংস্থাকে সরকারি কর্মী নিয়োগের কোনও দায়িত্ব দেওয়া আদৌ উচিত নয় বলে পর্যবেক্ষণে জানান প্রধান বিচারপতি। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের তথ্য সংরক্ষণের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানেও বহিরাগত প্রবেশ করলে সুপ্রিম কোর্টের কর্মীরা তা অবশ্যই নজরে রাখেন বলে জানান তিনি।

সেই সঙ্গে কমিশনের এই তথ্য রাখার প্রক্রিয়াকে জালিয়াতি বলে ভর্ৎসনা করেন প্রধান বিচারপতি। তিনিন বলেন, এসএসসি-র কর্তব্য ছিল সার্ভারে তথ্য সংরক্ষণ করা। সেই কাজ বহিরাগত সংস্থাকে আউটসোর্স করে নিরাপত্তায় বিরাট ফাঁক রেখেছে এসএসসি। আবার সেই সংস্থা অন্য কোনও সংস্থাকে সেই কাজের ভার দিয়েছে, যা কমিশনের জানাই ছিল না। এভাবেই সরকারি কাজে জালিয়াতি হয়েছে। এবং এই কারণেই সাধারণ মানুষের সরকারি সংস্থার উপর থেকে ভরসা উঠে যাচ্ছে, বলে পর্যবেক্ষণে জানান তিনি।

এরপরই প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন তাহলে কমিশনের কাছে কোনও তথ্য নেই। রাজ্যের আইনজীবী উত্তরে ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে মামলা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি সওয়াল করেন যাদের ওএমআর শিট কমিশনের তথ্যের সঙ্গে মিলছে না তাদের আলাদা করে বিচার করা পক্ষে। কমিশনের পক্ষে আইনজীবী হেগড়ে সওয়াল করেন ১৭-১৮ হাজার শিক্ষক শিক্ষাকর্মীর পক্ষে। সেখানেই তিনি দাবি করেন রাজ্যের স্কুলগুলির দুরবস্থার পক্ষে, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে স্কুলের প্রধানশিক্ষকও চাকরি হারিয়েছেন। এখানেই তিনি সওয়াল করেন, মাথায় ব্যথা হলে পুরো মাথা কেটে ফেলা হয় না, বলে।

spot_img

Related articles

হাই কোর্টে নিয়ন্ত্রণ শুনানি পর্ব: বুধে ইডি-আইপ্যাক মামলার আগে জারি নির্দেশিকা

একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দুপক্ষের দায়ের করা মামলা কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta...

চন্দ্রকোণায় প্রতিবাদ মিছিল শুভেন্দুর: কাল্পনিক, ভিত্তিহীন অভিযোগ, দাবি তৃণমূলের

আরও একবার বিরোধী দলনেতা নিজের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করার চেষ্টায়। নির্বাচনের আগে কোনও ইস্যু...

আক্রান্ত উত্তর ২৪ পরগনায় দুই নার্স! নিপা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের

রাজ্যে ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের...

রাজনীতির রঙ ভুলে শেষ শ্রদ্ধা সমীর পুততুণ্ডকে: দেহ দান এসএসকেএমে

বাংলার রাজনীতি যে সবসময় সৌজন্য শেখায় তা আবার এক মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল। মঙ্গলবার প্রয়াত পিডিএস...