Sunday, April 26, 2026

আচরণবিধি লাগু হতেই কমিশনের কড়া নজর, বদলি ও উন্নয়ন তহবিলে নিয়ন্ত্রণ

Date:

Share post:

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক কাজকর্ম, আধিকারিকদের বদলি এবং উন্নয়নমূলক তহবিল ব্যবহারের উপর একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই নির্দেশগুলি দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনও আধিকারিককে আচরণবিধি চলাকালীন বদলি করা যাবে না। যদি নির্বাচন ঘোষণার আগে কোনও বদলির নির্দেশ জারি হয়ে থাকে কিন্তু সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এখনও নতুন পদে যোগ না দিয়ে থাকেন, তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া সেই বদলি কার্যকর করা যাবে না। প্রশাসনিক প্রয়োজনেই যদি বদলি অপরিহার্য হয়, সে ক্ষেত্রেও কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এদিকে আচরণবিধি কার্যকর হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এলাকা উন্নয়ন তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাংসদ বা বিধায়কদের এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে নতুন করে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, আচরণবিধি জারির আগে কোনও প্রকল্পের কাজের অর্ডার দেওয়া থাকলেও যদি বাস্তবে সেই কাজ শুরু না হয়ে থাকে, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন তা শুরু করা যাবে না। তবে যে সব প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে, সেগুলি চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নেই। একইভাবে সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়া প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অনুমতি সাপেক্ষে অর্থ প্রদান করা যাবে। আবার যে সব প্রকল্পে আগে থেকেই অনুমোদন তহবিল বরাদ্দ হয়েছে এবং নির্মাণ সামগ্রী কাজের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে, সেই কাজ শেষ করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

আচরণবিধি লাগু হওয়ার পর সরকারি জায়গা থেকে রাজনৈতিক প্রচারের সব চিহ্ন দ্রুত সরানোর নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। সরকারি অফিস থেকে দেওয়াল লিখন, পোস্টার, ব্যানার, হোর্ডিং পতাকা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, বিমানবন্দর, সেতু, সরকারি বাস এবং বিদ্যুৎ বা টেলিফোনের খুঁটির মতো পাবলিক স্পেস থেকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আচরণবিধি চলাকালীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর নজরদারি বাড়াতে একটি স্ক্রিনিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। সদস্য হিসেবে থাকবেন সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিব বা প্রধান সচিব এবং সমন্বয় দফতরের সচিব বা প্রধান সচিব। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২২ মার্চের মধ্যে এই কমিটি গঠন করে কমিশনকে জানাতে হবে। আচরণবিধি চলাকালীন কোনও সরকারি দফতর নতুন প্রকল্প বা প্রস্তাব কার্যকর করতে চাইলে প্রথমে সেই প্রস্তাব স্ক্রিনিং কমিটির কাছে পাঠাতে হবে। কমিটির অনুমোদন মিললে তবেই তা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো যাবে। কোনও দফতর সরাসরি কমিশনের কাছে ফাইল পাঠাতে পারবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন- হেমন্ত কী হবেন হিমন্ত-নিধনের অস্ত্র: অসমে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভিন্ন লড়াই কংগ্রেসের

_

_

_

_

_

Related articles

এই আপ সাংসদদের ১০টা ভোটও জেতার ক্ষমতা নেই: ধুইয়ে দিলেন ওমর

জাতীয় রাজনীতিতে সাত আপ সাংসদের দলবদল নিয়ে যখন জোর চর্চা তখন এই সাংসদদের বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ ন্যাশনাল...

‘চলমান ধ্যান’, উৎপল সিনহার কলম

হাঁটার চেয়ে ভালো ব্যায়াম আর নেই। পাশাপাশি থাকবে সাঁতার। কিন্তু পিছন দিকে হাঁটা? এটাও কি ভালো ব্যায়ামের মধ্যে...

বসিরহাটে দক্ষিণে বিজেপির ‘ডাক্তার’ প্রার্থী আদতে নেপালের কম্পাউন্ডার! বিস্ফোরক অভিষেক

ভোটের মুখে বসিরহাট দক্ষিণে চড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ। শনিবার উত্তর গুলাইচণ্ডী ময়দানে তৃণমূলের মেগা সভা থেকে পদ্ম-প্রার্থীর ডাক্তার পরিচয়কে...

‘বেহালা এলে গর্ব হয়’, মেট্রো প্রকল্পের সাফল্য স্মরণ করিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ মমতার 

“বেহালা এলে আমার খুব গর্ব হয়। কেন জানেন? এই মেট্রো রেলটা আমি পুরো করে দিয়েছিলাম। উদ্বোধনটাও করেছিলাম। কাজও...