Friday, January 16, 2026

প্রধানমন্ত্রীর ২০ হাজার কোটির বাড়ি বিক্রি করেই মানুষের টাকা শোধ: অভিষেক

Date:

Share post:

তৃণমূল নেতাদের বাড়ি গাড়ি বিক্রি করার হুমকি দিয়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বিষ্ণুপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি বিক্রি করে মানুষের টাকা শোধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করে রাখার ফল ৪ জুন নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর বিরোধী জোটের সরকার গঠন হলেই প্রত্যক্ষ করতে পারবেন নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি, দাবি অভিষেকের। সাধারণ মানুষকে তিন বছর ধরে বঞ্চিত করে রেখে মোদির সরকার সেই টাকা কোথায় খরচ করেছে, সেই তথ্যও বিষ্ণুপুরের জনসভা থেকে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে দেন তিনি।

বাংলার বঞ্চনার প্রতিবাদ করে আসা তৃণমূলকে দিল্লির দরবার থেকেও খালি হাতে ফিরিয়ে ছিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। এরপরেও বাংলার মানুষের প্রাপ্য টাকা তৃণমূল সরকারই মানুষের হাতে তুলে দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে বিষ্ণুপুরে এসে নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন তৃণমূলনেতাদের বাড়ি গাড়ি বিক্রি করে মানুষকে সেই টাকা দেবেন তিনি। অথচ বাংলার একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনার টাকা ফেরৎ দেওয়া নিয়ে একটি কথা শোনা যায়নি তাঁর মুখে। এবার সেই প্রাপ্য ফেরতের দাবি করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন প্রধানমন্ত্রীর তৈরি ২০ হাজার কোটির বাড়ি বিক্রি করে তিনি মানুষের টাকা ফেরৎ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর পথেই তাঁর কথা কার্যত ফিরিয়ে দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দুদিন আগে বিষ্ণপুরে সভা করে বলেছে তৃণমূল নেতাদের ঘর বিক্রি করে আমি টাকা দেব। জানেন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি যদি বিক্রি করা হয় কত মানুষ উপকৃত হবে? আপনাদের বাড়ির জন্য রাজ্য সরকার আপনাকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিতে চায়। নরেন্দ্র মোদির সরকার আটকে দিয়েছে। আর দেশের প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি হচ্ছে দিল্লিতে সেন্ট্রাল ভিস্তা। খরচা করছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আগামীদিন সেটা বিক্রি করে বাংলার মানুষের হাতে ২০ লক্ষ মানুষকে আমরা টাকা তুলে দেব।”

বিষ্ণুপুরের সভা থেকে বিজেপির প্রার্থী সৌমিত্র খাঁকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন অভিষেক। মঙ্গলবার তিনি সৌমিত্র খাঁ সহ বিজেপি সাংসদদের তোপ দেগে মানুষকে মনে করিয়ে দেন, “আপনারা বিজেপিকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছিলেন। আর টাকা মিটিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এবার যদি বিজেপির প্রার্থী জেতে তাহলে আগামীদিন যদি আপনার মুখ থেকে খাবার কেড়ে নিয়ে চলে যায়, তৃণমূল কিন্তু আপনাদের পাশে দাঁড়াবে না।” সেই সঙ্গে তিনি বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের এক একটি বিধানসভা ধরে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেন যেখানে বিজেপি জেতার পরেও রাজ্যের পরিষেবা থেকে কেউ বঞ্চিত হননি।

spot_img

Related articles

চলো বিজেপি তাড়াই! লোকগানের সুরে অভিনব প্রতিবাদে কবীর সুমন

সুরের জাদুতেই কি এবার রাজনীতির লড়াই? সোশ্যাল মিডিয়ায় কবীর সুমনের সাম্প্রতিক একটি ভিডিও ঘিরে এমনই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।...

নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয়ে অভিষেক, শহিদ পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস

নন্দীগ্রামের কাছের মানুষ হয়ে উঠলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় কর্মসূচি থেকে শহিদ পরিবারের পাশে থাকার...

আড়াই মাসে প্রায় ৩০ লক্ষ টন, খরিফে ধান সংগ্রহে গতি রাজ্যের

রাজ্য খাদ্য দফতরের ধান সংগ্রহ অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। চলতি খরিফ মরসুমে সরকারি সহায়ক মূল্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের...

এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে মৃত ২! আত্মঘাতী বিএলও 

এসআইআর শুনানি ও অতিরিক্ত কাজের চাপকে কেন্দ্র করে রাজ্যে মৃত্যুর ঘটনা থামছেই না। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও লালগোলায়...