Wednesday, May 13, 2026

বিরোধীদের ধর্মীয় কটাক্ষের জবাবে বাংলাকে স্মরণ মোদির, লোকসভায় লাগাতার স্লোগান

Date:

Share post:

বিজেপির ধর্মীয় নীতি কতটা ভ্রান্ত তা সোমবার উদাহরণ দিয়ে তুলে ধরেছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। লোকসভার রেকর্ড থেকে সেই অংশ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বাদ দেন স্পিকার ওম বিড়লা। মঙ্গলবার প্রত্যাশিতভাবে সেই আক্রমণের পাল্টা দিলেন নরেন্দ্র মোদি। তবে সেখানেও তাঁকে বাংলার মা দূর্গার ঐতিহ্যকে টেনে আনতে হল। গোটা লোকসভা নির্বাচনে রামমন্দিরের ধ্বজা ওড়ানো মোদির মুখে রামলালার নাম এলো না। তবে এদিন বিরোধীদের প্রবল স্লোগানের মধ্যে গোটা রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তৃতা সম্পূর্ণ করতে মোদিকে।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা দাবি করেছিলেন, বিজেপি যেভাবে হিংসার ধর্ম প্রচার করে, হিন্দু ধর্মে সেই হিংসার উপাসনা হয় না। তারই পাল্টা বলতে গিয়ে মোদি দাবি করেন, “এই দেশ যুগ যুগ ধরে শক্তির উপাসক। আমাদের বাংলা মা দুর্গার পূজা করে, শক্তির উপাসনা করে। বাংলা মাকালীর উপাসনা করে। সমর্পিত হয়ে করে।” এমনকি এদিন সংসদে নীল জহর কোট পরেও উপস্থিত হন তিনি। যদিও মোদির বক্তব্যের পিছনে বিরোধীরা বলতে থাকেন, “ঝুট বোলে কাউয়া কাটে।” বিরোধীদের দাবি, বাংলায় মাদুর্গা বা মাকালীর পূজা হলেও তাতে যে শক্তি ও হিংসার প্রকাশের দাবি বিজেপি করে, তা মিথ্যা।

লোকসভার প্রচারের সময়ও বাংলায় দুর্গাপুজো বা সরস্বতী পুজো না হওয়া নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছিলেন মোদি। বারবার বাংলার সংস্কৃতিকে কালিমালিপ্ত করেছিলেন ইউনেস্কো স্বীকৃতি পাওয়া দুর্গাপুজো নিয়ে মিথ্যা বলে। সেই নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার সংসদে দাঁড়িয়ে নিয়ে স্বীকার করলেন বাংলায় দুর্গাপুজো, কালীপুজো যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।

তবে ধর্মীয় তিরে বিদ্ধ মোদি একবারও রামমন্দিরের নাম নেননি এদিন। যদিও হিন্দু ধর্মের কথাই মোদির বক্তব্যের ৮০ শতাংশ জুড়ে ছিল। সোমবারের প্রসঙ্গ টেনে এনে ধর্মীয় উস্কানি দিতেও ছাড়েননি তিনি। তাঁর কথায়, “সদনে গতকালের দৃশ্য দেখে এবার হিন্দু সমাজকে ভাবতে হবে এই অপনামজনক কথা কাকতালীয় না কোনও চক্রান্ত তৈরি হচ্ছে।”

বিরোধীদের তোলা দুর্নীতি বা কেন্দ্রের স্বৈরাচারী নীতিগুলির বিষয়ে যে আলোচনার দাবি জানানো হয়েছিল তার মধ্যে একমাত্র NEET কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খোলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কার্যত দুর্নীতির দায়ে বারবার অভিযোগের তিরে বিদ্ধ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে আড়ল করতেই মাঠে নামেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ধরনের কেলেঙ্কারি ঠেকাতে সরকার বদ্ধপরিকর। অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এই দুর্নীতির তদন্ত চলছে।

মঙ্গলবার উত্তর প্রদেশের হাথরসে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় প্রায় ১০০ জনের। লোকসভার বক্তৃতা থেকেই সেই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন নরেন্দ্র মোদি। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি।

Related articles

রেশনে আর আটা সরবরাহ নয়, নতুন সরকার গঠন হতেই ঘোষণা খাদ্যমন্ত্রীর 

বাংলায় পরিবর্তনের জেরে সরকার গড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অশোক কীর্তনীয়া (Ashoke Kirtania)। এবার...

২০ মে সারাদেশে বন্ধ থাকবে ওষুধের দোকান! ধর্মঘটের ডাক AIOCD-এর

২০ মে (বুধবার) দেশজুড়ে ওষুধ ধর্মঘটের ডাক দিল অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (AIOCD)। এই ধর্মঘটে...

ঝড়-বৃষ্টির দুর্যোগ কাটিয়ে রাজ্যে বাড়ছে তাপমাত্রা!

কালবৈশাখীর আমেজ এখন অতীত, ভরা গ্রীষ্মের মরশুমে উষ্ণতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রাজ্যের সব জেলায়। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস...

মোহনবাগান মানেই টুটু বোস: প্রয়াত প্রাক্তন সভাপতিকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবারকে সমবেদনা মুখ্যমন্ত্রীর

মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি (Former Mohun Bagan President) স্বপনসাধন বোসের (SwapanSadhan Bose) মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ফুটবলমহল। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ...