Monday, March 2, 2026

টেটের ওএমআর শিটের তথ্য উদ্ধারে সাইবার বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন সিবিআই

Date:

Share post:

২০১৪ সালে হওয়া রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগের পরীক্ষা টেটে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে উত্তরপত্র (ওএমআর শিট)। বার বার প্রশ্ন উঠেছে, ওই ওএমআর কোথায় উধাও হয়ে গেল?সিবিআইয়ের একটি সূত্র দাবি করেছে, ওই ওএমআরের আসল তথ্য আর নেই। নিম্ন আদালতে জমা দেওয়া সিবিআইয়ের নথিতে টেটের ওএমআর কী ভাবে উধাও হয়েছে তা জানানো হয়েছে বলে দাবি। সেই টেটের উধাও হওয়া ওএমআরের খোঁজে ফের এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানির দফতরে পৌঁছল সিবিআই। তাদের সঙ্গে আছেন এক কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ এবং এক সাইবার বিশেষজ্ঞ।মঙ্গলবার দুপুরে ওই দুই বিশেষজ্ঞকে সঙ্গে নিয়ে সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের ৫১৮ নম্বর বাড়িতে যান সিবিআই গোয়েন্দারা। সিবিআইয়ের দাবি, ওই কোম্পানির কম্পিউটার থেকে ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার ওএমআর শিটের তথ্য খুঁজে বার করার চেষ্টা করবেন বিশেষজ্ঞেরা।

সপ্তাহখানেক আগে সিবিআইকে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা বলেছিলেন, সিবিআই যদি ওএমআর তথ্য উদ্ধার না করতে পারে, তবে তারা তৃতীয় পক্ষের সাহায্য নিক। প্রয়োজনে দেশের তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত প্রথম সারির সংস্থাগুলির থেকেও সিবিআই সাহায্য নিতে পারে। সেই নির্দেশ পাওয়ার পর চার দিনও পার হয়নি, দুই বিশেষজ্ঞকে সঙ্গে নিয়ে এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানির দফতরে হাজির হল সিবিআই।

২০১৪ সালে রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে যে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তার কেন্দ্রে রয়েছে ২০১৪ সালের টেটের উত্তরপত্র বা ওএমআর শিটের তথ্য। এই তথ্য স্ক্যানিংয়ের দায়িত্বে ছিল এস বাসু রায় অ্যান্ড কোম্পানি। প্রাথমিকের নিয়োগে ওই ওএমআর শিট সংক্রান্ত মামলায় সিবিআইয়ের কাছে হার্ড ডিস্কের তথ্য তলব করেছিল হাই কোর্ট। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, ওএমআর শিট স্ক্যান করে কোথায়, কোন হার্ড ডিস্কে রাখা হয়েছিল, শুক্রবার আদালতের কাছে সেই বিষয়ে তথ্য জমা দিতে হবে সিবিআইকে। কিন্তু শুক্রবার সিবিআই আদালতে জানায়, তাদের পক্ষে ওই তথ্য জমা দেওয়া সম্ভব নয়। সিবিআইয়ের সূত্র এ-ও দাবি করেছে, যে সার্ভারে ওএমআরের নথি রাখা হয়, তা ২০১৭ সালে বদলে ফেলা হয়। কেন, তার কারণও জানানো হয়েছে। ওই সূত্র বলছে, যে হার্ড ডিস্কে তথ্য ছিল, সেটা ২০১৭-১৮ সালে হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
সিবিআই সূত্রে আরও দাবি করা গিয়েছে, যে সার্ভারে ওএমআরের নথি রাখা হয়, তা ২০১৭ সালে বদলে ফেলা হয়। সার্ভার ‘ক্র্যাশ’ করা হয়েছিল। সিবিআই এই টেট দুর্নীতিকাণ্ডে যাঁদের জেরা করেছে, তাঁরা এই সার্ভার ‘ক্র্যাশ’ করার দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে সিবিআই।

 

spot_img

Related articles

বিধায়ক-সাংসদ থেকে বিডিও! ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ খোদ জনপ্রতিনিধিরাও 

ভোটার তালিকা সংশোধনের কামড় এ বার খোদ জনপ্রতিনিধিদেরও গায়ে। খসড়া তালিকায় নাম বাদ পড়ার পর রাজ্যে প্রকাশিত চূড়ান্ত...

ব্রাত্যজন সঞ্জুর ব্যাটেই ক্যারিবিয়ান বধ, কাপযুদ্ধের সেমিতে ভারত

টি২০ বিশ্বকাপের( T20 World Cup) সেমিফাইনালে(Semifinal) ভারত (India)।ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে জয় টিম ইন্ডিয়ার (India)। ব্রাত্য...

বিজেপি-বিরোধী, সংখ্যালঘু ও তফসিলিদের বেছে বেছে নাম বাদ! তথ্য-প্রমাণ তুলে তোপ অভিষেকের

খসড়া তালিকায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ৫৮ লক্ষ বাদ। তারপর প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকাতেও আরও প্রায় ৬ লক্ষ নাম...

এসআইআর-এর নামে লক্ষ লক্ষ বাঙালির নাম বাদ! প্রতিবাদে রাজপথে বাংলা পক্ষ

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ বাঙালির নাম বাদ দেওয়া এবং কয়েক লক্ষ...