Monday, February 2, 2026

হারের উপহার! কল্যাণ চৌবের বাড়িতে ৬৩ পিসের রসগোল্লার হাঁড়ি পাঠালেন কুণাল!

Date:

Share post:

যত ভোটে বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবে হারবে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতে রসগোল্লা পাঠাবেন বলে গণনা কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। কল্যাণ হেরেছে। একেবারে গো-হারা হেরেছে। মানিকতলায় জয়ের মার্জিনে সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছেন তৃণমূল প্রার্থী সুপ্তি পাণ্ডে। জয়ের ব্যবধান ৬২ হাজার ৩১২ ভোট। অর্থাৎ ৬৩ হাজারের ঘরে জয়ের মার্জিন। আর যেমন কথা তেমন কাজ। ফলাফল বেরোনোর পর শনিবার সন্ধ্যায় পেল্লাই একটা হাঁড়িতে ৬৩ পিস রসগোল্লা সুন্দরভাবে সাজিয়ে কল্যাণ চৌবের বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন কুণাল ঘোষ। তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী সমর্থক রসগোল্লার হাঁড়ি কল্যাণের বাড়ি নিয়ে গেলে তাঁর আবাসনের নিরাপত্তা রক্ষী তা হাসিমুখে গ্রহণ করেন।

রসগোল্লা পাঠানোর আগে মানিকতলার তৃণমূল কোর কমিটির কনভেনর কুণালের (Kunal Ghosh) সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি মেয়র তথা তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষ সহ বেশকিছু নেতৃত্ব। রসগোল্লার হাঁড়ি হাতে কুণাল ঘোষ বলেন, কল্যাণ চৌবে মানিকতলা সুপ্তি পাণ্ডের কাছে প্রায় ৬৩ হাজার ভোটে হেরেছেন। ভোটের আগে কুৎসা করেছেন। তাই ৬৩ রসগোল্লার এই হাঁড়ি কল্যাণবাবুর বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। সবাই মিলে আনন্দ করাই ভালো। এরপর ওই হাঁড়ি নিয়ে তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী সমর্থক কল্যাণ চৌবের বাড়িতে যান। সম্ভবত কল্যাণ তখন বাড়ি ছিলেন না। তাই সেই মিষ্টির হাঁড়ি কল্যাণের আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীর হাতে তাঁরা দিয়ে আসেন।

গত মাসেই লোকসভা ভোটে মানিকতলা বিধানসভা থেকে প্রায় ৩ হাজারের কিছু বেশি ভোটে লিড নিয়েছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। উপনির্বাচনে লক্ষ্য ছিল রেকর্ড ব্যবধান। আর আনায়াসে লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়েছে তৃণমূল। কলকাতার মানিকতলা বিধানসভায় উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জিতেছে তৃণমূল। মানিকতলা বিধানসভার কাউন্টিং সেন্টার ছিল রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটি রোড ক্যাম্পাসে। এ দিন গণনা শেষ হতেই সেখানে যান কুণাল। দুপুরে সেখানে গিয়েই সংবাদ মাধ্যমকে কুণাল বলেন, ‘কল্যাণ চৌবে যত ভোটে হারবেন, ততগুলি রসগোল্লা ওঁর বাড়িতে পাঠাব।’

উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মানিকতলা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন সাধন পাণ্ডে। ২০ হাজার ২৩৮ ভোটে বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবেকে হারান তিনি। ২০২২-র ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যু হয় সাধন পাণ্ডের। তারপর থেকে এই কেন্দ্রটি বিধায়কহীন হয়ে পড়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী ৬ মাসের মধ্যে উপনির্বাচনের বিধান থাকলেও, মানিকতলা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে তা হয়নি। কারণ, কল্যাণ চৌবে মামলা করেছিলেন। ফলে দীর্ঘ আড়াই বছর এলাকাবাসী বিধায়কের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অনেকের মতে, উপনির্বাচনে কল্যাণের বিপুল ব্যবধানে হারের এটাও অন্যতম কারণ।

আরও পড়ুন: উপনির্বাচনে জয়জয়কার, নয়া বিধায়কদের শপথ নিয়ে রাজ্যপালকে ‘সংবিধান রক্ষা’র বার্তা স্পিকারের

 

spot_img

Related articles

যাবতীয় জল্পনার অবসান, কারা সম্প্রচার করবে ISL? জানিয়ে দিল AIFF

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে আইএসএল(ISL)। সোমবার সকালেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন(AIFF) লিগের মিডিয়া রাইটস সংক্রান্ত টেকনিক্যাল...

শবেবরাতে বাজি নিয়ন্ত্রণে কড়া হাইকোর্ট: রাত ১০টার পর বাজি ফাটালেই আইনি পদক্ষেপ

উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে ফের কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট।...

গণতন্ত্র বিপন্ন! ওপার বাংলার ‘প্রহসন’ নিয়ে সরব হাসিনা-পুত্র সজীব

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রতিবাদের সুর চড়ালেন শেখ হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার বিকেলে...

বঙ্গভবনে এবার রাজ্য পুলিশের পাহারা! বিমানে দিল্লি যাচ্ছে র‍্যাফ-ডিএসপি-র বিশেষ দল 

দিল্লিতে বঙ্গভবনের নিরাপত্তা এবং সেখানে থাকা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের (এসআইআর) কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল নবান্ন।...