Thursday, January 15, 2026

বৃত্ত সম্পূর্ণ হল, উচ্ছ্বাসে ভাসলেন মোহনবাগান রত্ন সৌরভ

Date:

Share post:

সোমবার, ২৯ জুলাই মোহনবাগান দিবস। ১৯১১ সালের এই দিনেই ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে প্রথমবার আইএফএ শিল্ড জিতেছিল মোহনবাগান। ধুলোয় মিশেছিল ব্রিটিশ ঔদ্ধত্য। সকাল থেকেই নানান অনুষ্ঠান ছিল এই উপলক্ষ্যে। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় মোহনবাগান দিবসের মূল অনুষ্ঠান হল। এবারের মোহনবাগান দিবস প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্য বিশেষ একটি দিন। কারণ এদিন মোহনবাগান রত্নে ভূষিত হলেন সৌরভ।

এবার এই সম্মান পেয়ে গর্বিত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। নিজের ক্লাব ক্রিকেট কেরিয়ারে ৯ বছর মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। মোহনবাগান তাঁবুতে অমর একাদশের মূর্তি উন্মোচনের দিনও উপস্থিত ছিলেন সৌরভ। দেওয়া হয়েছিল সদস্য কার্ড। এদিনের অনুষ্ঠানেও মূল আকর্ষণ সেই সৌরভই।

গোটা অনুষ্ঠানে মধ্যমণি হয়ে থাকলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর হাতে রত্ন তুলে দিলেন সচিব দেবাশিস দত্ত। মঞ্চে তখন নক্ষত্র সমাবেশ। বললেন ,এই ক্লাবে অনেক রত্ন আছেন আজ আমি পাচ্ছি। আগামী দিনের অন্যরা পাবেন আমি অত্যন্ত গর্বিত এই রত্ন সম্মান পেয়ে।

মোহনবাগান রত্ন পেয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন ময়দানে আমার একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল এই ক্লাবের হয়ে নয় বছর ধরে খেলেছি। একটা সময় বাবার মেম্বারশিপ কার্ড নিয়ে খেলা দেখতে আসতাম। মাঠে এখন একটাই পিচ ছিল অনুশীলনের জন্য।

তাঁর কথায়, ‘খেলার মাঠ একটা ইতিহাস তৈরির জায়গা। এই ক্লাবের অনেকেই আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন। মোহনবাগান ক্লাবের সাফল্যে তাঁরা নিজেদের গর্বিত মনে করবেন। ১৯১১ সালে মোহনবাগান ঐতিহাসিক জয়লাভ করেছিল। আর মানুষ সবসময় জয়টাই মনে রাখে। বাকি আর কিছু নয়।’ সবুজ মেরুনের সহ-সভাপতি কুণাল ঘোষ বলেন, মোহনবাগান দিবস মোহনবাগানিদের কাছে আবেগের। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছি ইতিহাস। জড়িয়ে আছে ভারতের স্বাধীনতার লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা । এদিন কৃতীদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা গর্বিত।কীভাবে সৌরভকে দলবদলের বাজারে মোহনবাগানে সই করিয়েছিলেন, সেই স্মৃতি তুলে ধরেন সভাপতি টুটু বোস। তিনি জানান, সৌরভের বাবা চাননি ছেলে মোহনবাগানে খেলুন, কিন্তু আমি মহারাজকে লুকিয়ে রেখেছিলাম অরুণ লালের বাড়িতে। আমাকে চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, তোমাকে তো পুলিশে দিতে হবে। তুমি আমার ছেলেকে কিডন্যাপ করেছ! তা আমি বলেছিলাম, তুমি একবার সৌরভের মা-কে জিজ্ঞাসা করো তো। আমি ওঁর মায়ের কথা মেনেই ছেলেকে আমাদের ক্লাবে সই করিয়েছি। মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই মোহনবাগানে খেলতে এসেছে তোমার ছেলে।

মোহনবাগান সচিব দেবাশিস দত্ত বলেন, আজ মোহনবাগান দিবসে সবাই একজোট হয়ে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেওয়ার দিন।

বাংলার ফুটবলকে আবার স্বমহিমায় দেখতে চান ক্রীড়ামন্ত্রী। অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা পিছিয়ে পড়ছি। ১২ বছরে সন্তোষ ট্রফি পাইনি। সম্বরণ ব্যানার্জি ছাড়া কেউ রঞ্জি দিতে পারেনি। কবে বাংলার ছেলেরা খেলবে? কবে আরেকটা শিবদাস ভাদুড়ী আসবে? কলকাতা ফুটবলের আতুরঘর।‌ তিন ক্লাবকে বলব বাংলার ছেলেদের তুলে আনতে। ১৯১১ ভারতীয় ফুটবলার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমি চাই একটা হিন্দি সিনেমা তৈরি হোক ১৯১১ শিল্ড জয় নিয়ে।’

 

spot_img

Related articles

এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে মৃত ২! আত্মঘাতী বিএলও 

এসআইআর শুনানি ও অতিরিক্ত কাজের চাপকে কেন্দ্র করে রাজ্যে মৃত্যুর ঘটনা থামছেই না। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও লালগোলায়...

ইতিহাস গড়ল গঙ্গাসাগর! পুণ্যস্নানে ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী 

‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’-এর টানেই আধ্যাত্মিকতা, বিশ্বাস ও বিপুল জনসমাগমের এক অনন্য মহামিলনে পরিণত হল গঙ্গাসাগর মেলা...

সুখবর! বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে এসএসকে-এমএসকে শিক্ষকদের, বিজ্ঞপ্তি জারি স্কুল শিক্ষা দফতরের

নতুন বছরে সুখবর এসএসকে ও এমএসকে শিক্ষকদের জন্য। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁদের ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই...

নন্দীগ্রামে ‘দাগি’র মামলায় বাতিল ২০১৬-র প্যানেল ! বিস্ফোরক অভিযোগ 

২০১৬-র শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছে আদালত। যার জেরে চাকরি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন রাজ্যের...