Tuesday, June 23, 2026

অর্জুনের মদতে আন্দোলনের নামে হামলা! জখম একাধিক পুলিশ আধিকারিক, গাড়িতে আগুন

Date:

Share post:

বিজেপির মুখোশ খুলে গেল নবান্ন অভিযানে। অর্জুন সিং গুণ্ডাবাহিনীকে নিয়ে পুলিশের উপর চড়াও হয়ে অরাজকতার চেষ্টা শুরু করেন। অর্জুন সিংয়ের বাহিনী পাথর তুলে পুলিশকে লক্ষ্য করে মারার চেষ্টা করলে সংবাদ মাধ্যমকে দেখে থেমে যাওয়ার ছবি স্পষ্ট ধরা পড়ে মঙ্গলবারের অরাজকতার মধ্যে। তারপরেও পুলিশকে ক্রমাগত হামলা করে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে যেতে থাকেন অর্জুন সিং। বিজেপি নেতৃত্বের এই ইন্ধনেই শহরের একাধিক জায়গায় পুলিশের হেলমেট খুলে, লাঠি দিয়ে মারার ছবি ধরা পড়ে। এমনকি প্রিন্সেপ ঘাটের দিকের মিছিল থেকে চক্ররেলের লাইনে ঢুকে রেললাইনের পাথর কুড়িয়েও পুলিশকে মারার পরিকল্পনা করেছিল হামলাবাজরা। পুলিশ প্রিন্সেপ ঘাট স্টেশনে সেই পরিকল্পনা বানচাল করে দেয়। যদিও তারপরেই পুলিশকে রক্তাক্ত করে গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় প্রিন্সেপ ঘাট চত্বরে।

প্রথমেই কলেজ স্কোয়্যারের মিছিল সংগঠিত করার শুরু করেন অর্জুন সিং। পরে হেস্টিংসের দিক থেকে আসা মিছিলে একেবারে সামনে বেরিয়ে আসেন অর্জুন। ব্যারিকেড না ভাঙার জন্য আন্দোলনকারীদের একাংশ আবেদন করেছিল। যদিও পরে সেই ব্যারিকেডই ভেঙে বেরিয়ে আসে গুণ্ডাবাহিনী। এই মিছিল থেকে প্ররোচনা দিয়ে ইটবৃষ্টি শুরু হয় পুলিশের উপর। পুলিশ বাধ্য হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়। তাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কিছু আন্দোলনকারী। কেন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করল, যেন তারই উত্তর চাইতে পাথর লাঠি নিয়ে তেড়ে আসে অর্জুনের বাহিনী। গুণ্ডাবাহিনীকে দেখা যায় পুলিশের লাঠি ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই সেই লাঠি দিয়ে মারতে।

আবার মহাত্মা গান্ধী রোডে সুরেন্দ্র নাথ কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পোস্টার, ব্যানার ছেঁড়ার রাজনীতিতে জড়ায় বিজেপির কর্মীরা। মহাত্মা গান্ধী রোডের মুখে যে মিছিল ছিল, সেখান থেকে হামলা চালানোর অভিযোগ। কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা বেরিয়ে এসে সেই হামলা প্রতিহত করে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশের তৎপরতায় দুপক্ষের গণ্ডগোল বড় আকার নিতে পারেনি।

তবে পরিকল্পনা মাফিক সবদিকের হামলা শেষ হলে প্রস্তুত রাখা ছিল দক্ষিণ কলকাতার দিক থেকে একটি মিছিল। প্রিন্সেপ ঘাটের কাছে সেই মিছিল থেকে মুহুর্মুহু শুরু হয় পুলিশের উপর ইট বৃষ্টি। পুলিশ বারবার সেই ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করতে এগিয়ে গেলে পুলিশকে হুমকি দেওয়া হতে থাকে। শেষে প্রিন্সেপ ঘাট স্টেশনের লাইন থেকে পাথর কুড়িয়ে নেওয়ার জন্য জড়ো হয় একটা বিরাট অংশ। পুলিশ সেই উদ্দেশ্য আগেই অনুমান করে প্রস্তুত ছিল। দ্রুত লাইনে উঠে গুণ্ডাবাহিনীকে পাথর ছোড়া থেকে আটকানো হয়।

তারপরেই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের একটি গাড়িকে ঘিরে পাথর বৃষ্টি করতে থাকে গুণ্ডাবাহিনী। পুলিশ আধিকারিক দেবাশিস চক্রবর্তীর বাম চোখে আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় কোনওমতে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ কর্মীরা জানান, চালকের তৎপরতায় কোনওমতে বাকি কর্মীরা রক্ষা পান। গাড়ির কাঁচ ভেঙে ভিতরে পাথর ভরে যায়। এরপর একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা।

Related articles

বেআইনি সম্পত্তি অধিগ্রহণে নতুন বিলের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর! দুর্নীতি দমন নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? উঠছে প্রশ্ন

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে নতুন আইন আনার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর...

উস্কানিমূলক মন্তব্য মামলা: অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করবে সিআইডি! আবেদন মঞ্জুর আদালতের

উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করার অনুমতি পেল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা...

ইতিহাস না জেনেই নাম বদলের হিড়িক? কলকাতায় মুঘল-ব্রিটিশ নাম মুছতে কমিটি গঠন শুভেন্দুর

কলকাতা শহর থেকে এবার সম্পূর্ণ মুছে যাবে মুঘল এবং ব্রিটিশদের নাম। রাজ্যপালের ভাষণের জবাবি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধানসভার...

আর জি কর-কাণ্ডে বিচারের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, বিধানসভায় কেঁদে ফেললেন অভয়ার মা

বিধানসভায় প্রথম জবাবি ভাষণ দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)। সেখানেই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের...