Monday, April 6, 2026

আর জি কর ইস্যুতে প্রশাসনিক পদক্ষেপে ‘দেরি’, রাজ্যসভা-রাজনীতি থেকে পদত্যাগ জহরের!

Date:

Share post:

সাম্প্রতিক আর জি করের ঘটনা নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা খুব কম ও অনেক দেরিতে, এই বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ ত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন জহর সরকার। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত কথা বলা হয়ে ওঠেনি, এমন কথা উল্লেখ করে রাজ্যের মানুষকে রক্ষার করার অনুরোধ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর জি করকে ইস্যু করে বাংলায় যে বিক্ষোভ প্রকাশ হয়েছে, তা স্বতঃস্ফূর্ত বলে দাবি জানিয়ে এই সুযোগে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। জহর সরকারের সাংসদ পদ ও রাজনীতি ছাড়ার অনুরোধে তৃণমূলের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

২০২২ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদে আসেন জহর সরকার। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, মূলত সাম্প্রতিক আর জি করের ঘটনায় কিছু তথ্য ও কিছু সঠিক বিষয় উঠে আসলেও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত রাগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সেই পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত ডাক্তারদের জন্য পুরোনো ভঙ্গিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করেছিলেন সরকার। রাজ্যের প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্থ ডাক্তারদের বিরুদ্ধে আগেই পদক্ষেপ নিলে গোটা রাজ্যের পরিস্থিতি আগেই স্বাভাবিকতায় ফিরিয়ে আনা যেত বলে তিনি দাবি করেন চিঠিতে। আর এই অশান্ত পরিস্থিতির কারণেই বিরোধী দলগুলি ঘোলা জলে মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এক্ষেত্রেই তিনি আশঙ্কা করেন স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে এভাবে ঢুকে পড়তে পারে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিও।

তিন বছর রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন দেশের স্বৈরাচারী ও সাম্প্রদায়িক বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রীকে। গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও বিভিন্ন দলের নেতারা যেভাবে দুর্নীতির টাকায় ফুলেফেঁপে উঠেছে, তাতে বারবার প্রমাণিত হয়েছে কেন্দ্রের সরকার কীভাবে বড়লোকদের সুবিধা করে দিচ্ছে, চিঠিতে উল্লেখ করেন জহর। তবে বাংলায় এভাবে নেতাদের অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি বৃদ্ধি রাজ্যের মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখেন না বলেই দাবি তৃণমূল সাংসদের। সেই সঙ্গে রাজ্যের দুর্নীতিগ্রস্থ আধিকারিকদেরও সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণ হিসাবে তুলে ধরেন সরকার।

এই সব কারণেই আর সাংসদ থাকা বা রাজনীতিতে না থাকার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি। রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথাও লিখেছেন চিঠিতে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই রাজ্যকে রক্ষার করার আবেদন জানিয়েছেন। জহর সরকারের চিঠি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দল, জানিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ।

Related articles

মুর্শিদাবাদ থেকে শিলিগুড়ি: উত্তরে প্রচারে অভিষেক

সোমবার গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রচার তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দক্ষিণের জেলাগুলিতে পুরুলিয়া থেকে পূর্ব বর্ধমানে প্রচার (election...

সোমে মতুয়া গড়ে মমতা: পূর্ব বর্ধমান, নদিয়ার প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার

নির্বাচনী প্রচার পর্বে মালদহ, মুর্শিদাবাদের পরে এবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তাঁর...

সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলা: ট্রাইবুনাল, নাম বাদ পড়া ভোটারে নির্দেশের অপেক্ষা

নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ও ন্যায্য ভোটারদের তালিকায় জায়গা পাওয়া, না পাওয়া নিয়ে উত্তাল রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে সোমবার...

চিরবিদায়! প্রয়াত পদ্মশ্রী চিকিৎসক মণি ছেত্রী

প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি চিকিৎসক মণি কুমার ছেত্রী। রবিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ বালিগঞ্জ প্লেসের নিজ বাসভবনেই শেষ...