আজ মহাসপ্তমী। শাস্ত্রমতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুজো শুরু। তিথি নক্ষত্রের হিসেব মেনে এ বছর ৩ দিনেই দুর্গা আরাধনা শেষ। যদিও রাজ্যজুড়ে মহালয়ার (Mahalaya) পর থেকেই ঠাকুর দেখার ভিড় বুঝিয়ে দিয়েছে এই পুজোর কটা দিনের অপেক্ষা মানুষের মধ্যে কতটা তীব্র। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস মাথায় নিয়েই ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে দর্শনার্থীদের ঢল। সপ্তমীর সকাল থেকেই চূড়ান্ত ব্যস্ততা। তিথি শেষ হওয়ার আগেই গঙ্গার ঘাটে ঘাটে নবপত্রিকা স্নানের চেনা ছবি। শাস্ত্র মতে আজ থেকেই দেবী দুর্গার অকালবোধনের পুজো (Durga Puja) শুরু।


পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে সপ্তমীর দিন নবপত্রিকা স্নানের এক বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সূর্য ওঠার আগেই, একটি কলাগাছ পবিত্র গঙ্গার জলে স্নান করিয়ে, তারপর এটিকে নববধূর এর মতো নতুন শাড়ি পরানো হয়। চলতি ভাষায় কলা বউ বলা হলেও নবপত্রিকার অর্থ হল ৯ গাছ, যার মধ্যে থাকে কলা, বেল, অশোক, কচু, হলুদ, ধান, জয়ন্তী, মান ও দাড়িম। আসলে দেবী এখানে শাকম্ভরী হিসেবে পূজিতা হন। দুর্গার ৯টি রূপকে প্রতিষ্ঠিত করা হয় যার মধ্যে রয়েছে, রম্ভাধিষ্ঠাত্রী ব্রহ্মাণী, কচ্বাধিষ্ঠাত্রী কালিকা, হরিদ্রাধিষ্ঠাত্রী উমা, জয়ন্ত্যাধিষ্ঠাত্রী কার্তিকী, বিল্বাধিষ্ঠাত্রী শিবা, দাড়িম্বাধিষ্ঠাত্রী রক্তদন্তিকা, অশোকাধিষ্ঠাত্রী শোকরহিতা, মানাধিষ্ঠাত্রী চামুণ্ডা ও ধান্যাধিষ্ঠাত্রী লক্ষ্মী। এই নবপত্রিকাবাসিনী নব দুর্গার মন্ত্র হল ‘নবপত্রিকাবাসিন্যৈ নবদুর্গায়ৈ নমঃ’। নবপত্রিকা মণ্ডপে আনার পর দেবীকে মহাস্নান করানো হয়। অন্যান্য বছরের মত এ বছরেও সেই চূড়ান্ত ব্যস্ততার ছবিটাই গঙ্গার ঘাট থেকে শুরু করি বারোয়ারি পুজো প্যান্ডেল সর্বত্রই চোখে পড়ছে। শোভাবাজার রাজবাড়িতে (Shovabazar Rajbati) দেবী ঘরের মেয়ে হিসেবে পূজিতা হওয়ার কারণে এখানে নবপত্রিকা স্নান ঠাকুরদালানেই করানো হয়। ভবানীপুরের মল্লিক বাড়িতে এ বছর শতবর্ষের পুজো। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মেনে সকাল থেকে সেখানেও দেবী আরাধনা শুরু হয়েছে।












