মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ রওনা দিচ্ছেন পাহাড় সফরে। সোমবার দেড়টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। রাতেই তাঁর দার্জিলিং পৌঁছনোর কথা। দার্জিলিংয়ের ম্যালে পঞ্চায়েত দফতরের উদ্যোগে এবার সরল মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সেই মেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই সফরে মূলত নজর থাকবে জিটিএ বৈঠকের দিকে। ১২ নভেম্বর অর্থাৎ মঙ্গলবার তিনি জিটিএ সভাসদদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠক করবেন পাহাড়ের বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গেও।
মুখ্যমন্ত্রীর এবারের পাহাড় সফরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জিটিএ বৈঠক শুরু হবে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ। জিটিএ এবং পাহাড়ের বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাও জানা গিয়েছে বিশেষ সূত্রে। পাহাড়ের বেশ কয়েকটি পুরসভা ভোট বাকি রয়েছে। তার আগে এই বৈঠক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এরপর ১৩ নভেম্বর ম্যালের চৌরাস্তায় সরস মেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। টানা ১১ দিন ধরে চলবে এই মেলা। ১৩ তারিখ দুপুর ৩টেয় মেলার উদ্বোধন। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হস্তশিল্পীরা আসবেন। যোগ দেবেন দেশ-বিদেশের পর্যটকরা। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এবার ম্যালে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এই সরস মেলার। এই মেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে পাহাড়। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে পাহাড়বাসী। পাহাড়তে ঘিরে আরও একটা উৎসবের আমেজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে। সরস মেলার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে রাজ্যের হস্তশিল্পীদের কাজ তুলে ধরাই লক্ষ্য রাজ্য সরকারের।
বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৪ সেপ্টেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়ি ফিরে আসবেন। তারপর ফিরবেন কলকাতায়। কলকাতায় ফিরেই তিনি যোগ দেবেন রাজারহাটে আদিবাসী ভবনে বীরসা মুণ্ডার ১৫০তম জন্মদিবসের অনুষ্ঠানে। নভেম্বরের ১৫-২১ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে পালিত হবে বীরসা মুণ্ডা দিবস।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই পাহাড় সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, পাহাড়ে তিন পুরসভার নির্বাচন নিয়ে দলকে বিশেষ নির্দেশনা দিতে পারেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অবস্থান নিয়েও এবার আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাহাড় সফরের মধ্যেই উত্তরের দুই বিধানসভা আসন মাদারিহাট ও সিতাইয়ে উপনির্বাচন রয়েছে৷ উত্তরেও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে তৎপর। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড় সফরে একাধিক রাজনৈতিক সমীকরণও জড়িয়ে রয়েছে।











