রাজ্য সরকার চলতি খারিফ মরশুমে চাষিদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান সংগ্রহ শুরু করেছে। গত শনিবার পর্যন্ত ৬৮০০ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে সর্বাধিক ২৮০০ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এবছর ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৭০ লক্ষ টন। এবার মরশুমের শুরুতেই ১৮ লক্ষ কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রি করার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। যা গত বছরের তুলনায় ৩ লক্ষ বেশি। ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার এক গুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জমির পরিমাণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শিবিরে বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে।


আগে খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি থাকত। চাষিরা ক্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে ফড়েদের ধান বিক্রি করত। অধিকাংশ জেলা ধান কেনার টার্গেট পূরণ করতে পারত না। কিন্তু, গত বছরও ধানের দাম সরকার বেশি দেওয়ায় অধিকাংশ জেলা ধান কেনার টার্গেট ছুঁয়ে ফেলেছে। ধান কেনার ক্ষেত্রে পূর্ব বর্ধমান জেলা এক নম্বরে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে হুগলি রয়েছে। সামনের মরশুমে প্রতিটি জেলাতেই ধান কেনার টার্গেট বাড়ানো হয়েছে। অনেক সময় ফড়েরা অন্যের নথি দিয়ে ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করে। তারা সেটা যাতে করতে না পারে তার জন্য বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নাম নথিভুক্ত হওয়ার পর চাষিদের আঙুলের ছাপ দিতে হবে। তবে এবার থেকে বর্গাদাররাও ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করতে পারবেন। তবে তাঁদের জমি সংক্রান্ত স্ব-ঘোষণাপত্র দিতে হবে।

সরকার ধানের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় চাষিরা খুশি। কৃষিক্ষেত্রে সব জিনিসের দাম বেড়ে গিয়েছে। সারের দাম আকাশ ছোঁয়া। এবছর অনেক জমিতে দু’বার ধান রোপণ করতে হয়েছে। ধানের দাম না বাড়ানো হলে চাষিরা সমস্যায় পড়তেন। মূল্যবৃদ্ধির জন্য চাষিদের নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকার দাম বাড়িয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সব চাষি যাতে ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করতে পারে সেটা দেখা দরকার। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চাষিদের ক্রয়কেন্দ্র থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ধানে ধুলো রয়েছে বলে চাষিদের বিপাকে ফেলার প্রবণতা রয়েছে। এমনটাই দাবি ধান চাষীদের।

আরও পড়ুন- নড়িয়ে দেব অযোধ্যার ভিত! দিন ঘোষণা করে হুমকি পান্নুনের









